সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে ওভারব্রিজ নির্মাণ বন্ধ, যাত্রীদের দুর্ভোগ
বগুড়ার আদমদীঘির ঐতিহাসিক সান্তাহার রেলওয়ে জংশন স্টেশনে নতুন করে শুরু হওয়া ওভারব্রিজের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। ১৮৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টেশনের পুরনো ব্রডগেজ লাইন ওভারব্রিজটি গত বছর ভেঙে নতুন নির্মাণকাজ শুরু হলেও, বর্তমানে তা সম্পূর্ণরূপে স্থবির হয়ে পড়েছে।
নির্মাণকাজ বন্ধের কারণ
পাকশী বিভাগের রেলওয়ে ব্রিজ সেকশনের প্রকৌশল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ওভারব্রিজটির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকা। গত বছরের প্রথম দিকে রজলীন কন্সট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এই কাজের দায়িত্ব পায়। শুরুতে কাজে গতি থাকলেও, বর্তমানে ফান্ড সংকট ও শ্রমিক স্বল্পতার কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।
রেলওয়ে পাকশী বিভাগের ঊর্ধ্বতন উপ-সহকারী প্রকৌশলী হাসান আলী স্বীকার করেছেন, ‘ফান্ডের কারণে ঠিকাদার কাজ করতে পারছেন না। এ পর্যন্ত যেসব কাজ হয়েছে তার সিংহভাগ ঠিকাদার নিজস্ব তহবিল থেকে করেছেন। ঈদের ছুটির পর সময়মতো শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে।’
যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
প্রতিদিন সান্তাহার জংশন স্টেশনের ওপর দিয়ে ৪২টি ট্রেন চলাচল করে। আগে যাত্রীরা ওভারব্রিজ ব্যবহার করতেন, কিন্তু বর্তমানে ওভারব্রিজ না থাকায় তাদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রেললাইনের মধ্যে দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। ট্রেনযাত্রী রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রায় এক বছর ধরে ওভারব্রিজের নির্মাণকাজ চলছে। তারপরও কাজ শেষ হচ্ছে না। ওভারব্রিজ না থাকায় যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
মঙ্গলবার স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের থাকার অফিস তালাবদ্ধ। কোনও শ্রমিকের দেখা মেলেনি। স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, ‘নির্মাণকাজ কেন বন্ধ রয়েছে তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।’
ঠিকাদারের বক্তব্য
রজলীন কন্সট্রাকশনের ঠিকাদার মিস্টার রিডার ফান্ড সমস্যার বিষয়টি স্বীকার করে জানান, ওভারব্রিজের প্রায় ৯০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। নির্মাণ ব্যয় দুই কোটি ৭৭ লাখ টাকার মধ্যে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ লাখ টাকা বিল পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে এ পর্যন্ত নিজস্ব অর্থ ব্যয় করে কাজ করেছেন। বাকি কাজ শেষ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।’
শুরুতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের চলতি ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, তারা ব্যর্থ হয়। বর্তমানে স্বল্পসংখ্যক নির্মাণশ্রমিক নিয়ে কাজ চালিয়ে গেলেও, ঈদের আগে থেকে তা একেবারে বন্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা অবিলম্বে কাজটি শেষ করতে সংশ্লিষ্ট সবার হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



