ঝিনাইদহের ইছামতি নদীতে তিন দিনে দুই লাশ উদ্ধার, একজনের শরীরে গুলির চিহ্ন
ইছামতি নদীতে তিন দিনে দুই লাশ উদ্ধার, গুলির চিহ্ন

ঝিনাইদহের ইছামতি নদীতে তিন দিনের ব্যবধানে দুই লাশ উদ্ধার

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ইছামতি নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাতে পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকা থেকে রতিকান্ত জয়ধর (৪৫) নামের এক ব্যক্তির গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত সোমবার রাতে একই নদীর পাড় থেকে একটি অজ্ঞাত যুবকের লাশ পাওয়া যায়।

লাশ উদ্ধারের বিস্তারিত ঘটনা

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কচুরিপানার নিচে থাকা লাশ পচে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উৎস খুঁজতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান। তারা দ্রুত পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে রতিকান্ত জয়ধরের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে তার শরীরে গুলির স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে।

অন্যদিকে, সোমবার রাতে পলিয়ানপুর সীমান্ত এলাকার ইছামতি নদীর পাড়ে একটি অজ্ঞাত যুবকের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ওই লাশ উদ্ধার করে, কিন্তু চার দিন পার হলেও এখনো তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের পরিচয় ও পরিবারের বক্তব্য

নিহত রতিকান্ত জয়ধর গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া থানার পলোটানা গ্রামের দেবেন্দ্রনাথ জয়ধরের ছেলে। তার ছোট ভাই রঞ্জিত জয়ধর মহেশপুর থানায় হত্যা মামলা করেছেন। এ ঘটনায় অজ্ঞাত লাশ উদ্ধারের জন্য একটি অপমৃত্যু মামলাও রুজু করা হয়েছে।

রঞ্জিত জয়ধর জানান, তার ভাই গত ৯ এপ্রিল মাদারীপুর জেলার ভেন্নাবাড়ী গ্রামের মামার বাড়িতে বেড়াতে যান এবং ১২ এপ্রিল থেকে নিখোঁজ ছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি লাশ শনাক্ত করেন এবং দাবি করেন যে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তিনি সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, সীমান্ত পারাপারের সময় ভারতীয় বিএসএফ বা অজ্ঞাত ব্যক্তিরা গুলি করে হত্যার পর কচুরিপানার নিচে মরদেহ গুম করে রাখতে পারে। রতিকান্ত জয়ধর দীর্ঘদিন পরিবারসহ ভারতে বসবাস করতেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, সীমান্তের ইছামতি নদী থেকে তিন দিনের ব্যবধানে দুইটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে রতিকান্ত জয়ধরের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে এবং তার শরীরে গুলির চিহ্ন পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতদের আসামি করে হত্যা মামলা হয়েছে। অপর অজ্ঞাত লাশের পরিচয় এখনো শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, এবং পুলিশ দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে বলে জানানো হয়েছে। নিহতের পরিবার ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছে, এবং স্থানীয়রা নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে।