সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, চোরাচালান সন্দেহ
ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত

সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে বাংলাদেশি যুবক নিহত, চোরাচালান সন্দেহে তদন্ত চলছে

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত এলাকায় এক মর্মান্তিক ঘটনায় বাংলাদেশি এক যুবক নিহত হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে ভারত সীমান্তের অভ্যন্তরে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে ভারতীয় খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজনের গুলিতে সালেহ আহমেদ নামের যুবক প্রাণ হারান।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত সালেহ আহমেদের বয়স ছিল ৩০ বছর। তিনি কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দয়ারবাজার ডাকঘরের কারবালার টুক গ্রামের মৃত বিরাম আলীর ছেলে। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাতে সালেহ আহমেদ আরও দুজন ব্যক্তির সঙ্গে সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন।

সঙ্গী দুজন হলেন নাজিরগাঁও গ্রামের সুমন মিয়া (২৫) এবং একই এলাকার মাসুম আহম্মদ (২০)। তাঁরা ভারতের প্রায় এক কিলোমিটার ভেতরে চংকেট ও মারকানের বাগানের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থান নেন। এই সময় সুপারিবাগানে অবস্থানকালে তাঁদের চোর সন্দেহ করে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন কয়েকটি ছররা গুলি ছোড়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নিহতের উদ্ধার ও তদন্ত প্রক্রিয়া

গুলিবিদ্ধ হয়ে সালেহ আহমেদ ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে তাঁর সঙ্গে থাকা অন্য দুজন সালেহকে উদ্ধার করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। সিলেট বিজিবি ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হক জানান, সালেহ আহমেদসহ তিনজনই সীমান্তে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম খান বলেন, শুক্রবার দুপুরে ঘটনাটি জানতে পেরে পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। সালেহ আহমেদের বাড়িতে এক কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছে ঘটনার বিস্তারিত অনুসন্ধানের জন্য।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান ইস্যু

এই ঘটনা বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এই এলাকায় চোরাচালানের ঘটনা আগে থেকেই বিদ্যমান, যা সীমান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। বিজিবি ও পুলিশের যৌথ তদন্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে আরও কঠোর নজরদারি ও সমন্বিত পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে, যেখানে নিহতের পরিবারকে সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।