লালমনিরহাটে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক নিহত
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার ধবলগুড়ি সীমান্তে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন (৪৯) নিহত হয়েছেন। এই ঘটনার এক দিন আগে একই সীমান্তে বাংলাদেশি তরুণ মিজানকে গুলিতে আহত করার ঘটনায় বিএসএফ দুঃখ প্রকাশ করেছিল।
মরদেহ ভারতীয় হাসপাতালে
লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নিহত আলী হোসেনের মরদেহ বর্তমানে ভারতের একটি হাসপাতালে সংরক্ষিত আছে। বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, তিনি লালমনিরহাটের পাটগ্রামের ধবলগুড়ি গ্রামের প্রয়াত আবদুল গফুরের ছেলে ছিলেন।
সীমান্তে গুলিবর্ষণের ঘটনা
বিজিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বুধবার ভোররাতে সীমান্ত পিলার ৮৭৪/৫–এস–সংলগ্ন শূন্যরেখা থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভারতের ভেতরে সাতগ্রাম ক্যাম্প এলাকায় গুলির শব্দ শোনা যায়। গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা ৫০ মিনিটে একটি গুলি এবং ভোর ৪টা ৫০ মিনিটে আরেকটি গুলি ছোড়া হয়। পরে সকাল আনুমানিক ৬টা ৩৫ মিনিটে উভয় দেশের ব্যাটালিয়ন অধিনায়কদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়।
বিএসএফের বর্ণনা
বিএসএফের পক্ষ থেকে পাওয়া ভাষ্য অনুযায়ী, সাত থেকে আট বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় সীমান্তে তারকাঁটার বেড়া কাটার উদ্দেশ্যে গেলে বিএসএফের সদস্যরা প্রথমে সতর্কতামূলক গুলি করেন। একপর্যায়ে চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিএসএফ সদস্যদের ধস্তাধস্তি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন ঘটনাস্থলে গুলিবিদ্ধ হন। পরে বিএসএফের সদস্যরা মরদেহটি তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে স্থানীয় ভারতীয় হাসপাতালে পাঠান।
বিজিবির প্রতিক্রিয়া
লালমনিরহাট তিস্তা ব্যাটালিয়নের (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম জানান, বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিতভাবে যাচাই ও তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম চলমান। বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন ও সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।
তিনি বলেন, 'গত সোমবার পাটগ্রামের ধবলসূতি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি তরুণ মিজান আহত হওয়ার ঘটনায় প্রতিপক্ষ বিএসএফের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করে তাদের নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু এরপর পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নাগরিক আলী হোসেন নিহত হলেন। ঘটনাটি দুঃখজনক। তাঁকে গুলি না করে আটকের পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ হলে ভালো হতো। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বিষয়টি পতাকা বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সীমান্তে গুলি নয়, বিকল্প ব্যবস্থা চাই, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান চাই। পাশাপাশি উভয় দেশের নাগরিকদের সীমান্ত আইন মেনে চলতে আহ্বান জানাচ্ছি।'



