সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরে সার্ভার রুমে অগ্নিকাণ্ড: তদন্ত শুরু, ইমিগ্রেশন ম্যানুয়ালি চলছে
সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। গত রোববার রাত সোয়া ১১টার দিকে এই আগুনের ঘটনা ঘটে, যা রাত সোয়া ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আজ মঙ্গলবার থেকে এই কমিটির তদন্তকাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যদিও এখন পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা যায়নি।
ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে প্রভাব ও ফ্লাইট চলাচল
সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ার কারণে ইমিগ্রেশন কার্যক্রম বর্তমানে ম্যানুয়ালি পরিচালিত হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে কাজে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিলেও, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট চলাচলে কোনো সমস্যা হয়নি বলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। গতকাল সোমবার ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের অপারেশন পরিচালনার পাশাপাশি ঢাকা রুটে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটও স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। যাত্রীদের কিছুটা ভোগান্তি হলেও ফ্লাইট বিড়ম্বনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া ও তদন্ত প্রক্রিয়া
ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক হাফিজ আহমদ গতকাল সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে জানান, আগুন লাগার সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না। ঢাকা থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে, তবে চিঠি এখনো তাঁর কাছে পৌঁছায়নি। ফলে কমিটির সদস্য সংখ্যা বা তদন্ত শেষ হওয়ার সময়সীমা সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি। এদিকে, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক গতকাল বেলা দেড়টার দিকে সিলেটে পৌঁছে পুড়ে যাওয়া সার্ভার রুম পরিদর্শন করেন। তিনি সংশ্লিষ্ট সবাইকে অবহিত করেন যে তদন্তের মাধ্যমে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাতের বিষয়টি অনুসন্ধান করা হবে।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাবলী ও ক্ষয়ক্ষতি
গত রোববার রাত সোয়া ১১টার দিকে বিমানবন্দরের দোতলায় অবস্থিত ইমিগ্রেশন সার্ভার রুমে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। আগুনের কারণে প্রচুর ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে, যা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের দ্রুত পদক্ষেপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। আগুনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে গতকাল পর্যন্ত এর সঠিক পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, সার্ভার রুম পুড়ে যাওয়ায় ইমিগ্রেশন কার্যক্রমে স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম ব্যাহত হয়েছে, কিন্তু ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
এই ঘটনায় বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও কার্যক্রম নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হলেও, কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের মাধ্যমে আগুনের কারণ ও ভবিষ্যৎ প্রতিরোধ ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্টতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।



