সিরাজগঞ্জে মোটরসাইকেলে ট্রাকের চাপায় এনজিও কর্মকর্তার মর্মান্তিক মৃত্যু
সিরাজগঞ্জ জেলার সদর উপজেলায় এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় আলমগীর হোসেন (৩৫) নামে এক বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) বিকেলে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কে সয়দাবাদ ইউনিয়নের মুলিবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আলমগীর হোসেন চৌহালী উপজেলার চরধীতপুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে ছিলেন এবং তিনি মানব মুক্তি নামক এনজিওতে হিসাবরক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
দুর্ঘটনার বর্ণনা ও আহতের অবস্থা
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে যমুনা সেতুর পশ্চিমপাড় কড্ডারমোড় বাসস্ট্যান্ড থেকে সয়দাবাদ খাস বড় শিমুলে অবস্থিত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা দেন আলমগীর হোসেন ও তার সহকর্মী শাখা ব্যবস্থাপক রেজাউল করিম। পথে দ্রুতগামী একটি মাটিবাহী ট্রাক অকস্মাৎ মোটরসাইকেলটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় ঘটনাস্থলেই আলমগীর হোসেন মারা যান এবং রেজাউল করিম গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে। আহত রেজাউল করিমকে একই হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে ভর্তি করা হয়েছে এবং তার চিকিৎসা চলমান রয়েছে।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে বলেন, 'দুর্ঘটনার পরপরই মাটিবাহী ট্রাকটি পালিয়ে যাওয়ায় আমরা এখন পর্যন্ত তা শনাক্ত করতে পারিনি। তবে ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে এবং ট্রাক চালককে খুঁজে বের করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনা এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও যানবাহন নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। স্থানীয়রা দাবি করেছেন যে মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে প্রায়শই এমন ঘটনা ঘটছে এবং দ্রুত প্রতিকারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।



