সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন: উপবন এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন বিকল, ৩ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক
মৌলভীবাজারের ভানুগাছ-শমশেরনগর রেলপথে ঢাকা থেকে সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিন বিকল হওয়ায় সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ তিন ঘণ্টার জন্য বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) সকালে ঘটনাটি ঘটে এবং পরে বিকল্প ব্যবস্থায় ট্রেন চলাচল পুনরায় চালু করা হয়।
ঘটনার বিবরণ
ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার পলাশ ও শমশেরনগর রেলওয়ে সহকারী স্টেশন মাস্টার স্বপন সিংহের বর্ণনা অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা ২ মিনিটে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভানুগাছ স্টেশন অতিক্রম করে। মাত্র আট মিনিট পর, সকাল ৬টা ১০ মিনিটে শমশেরনগর এলাকার পূর্ব কালিপুর নামক স্থানে গিয়ে ট্রেনের ইঞ্জিন সম্পূর্ণরূপে বিকল হয়ে পড়ে।
এ ঘটনায় ট্রেনের কোনো যাত্রী হতাহত না হলেও, তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট অঞ্চলের সঙ্গে দেশের অন্যান্য অংশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। রেলপথে চলাচলকারী অন্যান্য ট্রেনগুলোর যাত্রাও ব্যাহত হয়।
উদ্ধার কার্যক্রম ও স্বাভাবিকীকরণ
কুলাউড়া স্টেশন মাস্টার রোমান আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইঞ্জিন বিকল হওয়ার পর দ্রুত বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। সিলেট থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন আনা হয় এবং সকাল ৯টায় কালনী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ব্যবহার করে উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে শমশেরনগর রেলস্টেশনে টেনে আনা হয়।
এই উদ্ধার কার্যক্রমের মাধ্যমে ট্রেনটি সফলভাবে সরানো হয় এবং রেলপথ পুনরায় চলাচলের উপযোগী হয়। ফলে, প্রায় তিন ঘণ্টা পর সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণরূপে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এই ঘটনায় রেলযাত্রীদের মধ্যে কিছুটা বিশৃঙ্খলা ও অসুবিধা তৈরি হলেও, দ্রুত পদক্ষেপের কারণে বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষের তৎপরতা প্রশংসনীয় ছিল বলে স্থানীয়রা মত প্রকাশ করেছেন।
এটি সিলেট-আখাউড়া রেলপথের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, যা রেল অবকাঠামোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আবারও তুলে ধরেছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে, সে জন্য কর্তৃপক্ষকে সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।



