উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন: সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ
উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন, রেল যোগাযোগ বন্ধ

উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন: সিলেটের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে সিলেটগামী আন্তনগর উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনের ইঞ্জিনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছ ও শমসেরনগর রেলস্টেশনের মধ্যবর্তী কালীপুর গ্রাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে আজ সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টা সারা দেশের সঙ্গে সিলেটের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ঘটনার বিবরণ

প্রত্যক্ষদর্শী ও রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা সিলেটগামী উপবন এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভানুগাছ স্টেশন অতিক্রম করার পরপরই লোকোমোটিভের (ইঞ্জিন) নিচ থেকে ধোঁয়া ও আগুন বের হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি বুঝে চালক দ্রুত ট্রেনটি থামিয়ে দেন। এতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলেও ইঞ্জিনটি বিকল হয়ে পড়ে এবং ট্রেনটি ঘটনাস্থলেই আটকে পড়ে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

ভানুগাছ রেলস্টেশনের স্টেশনমাস্টার গৌরপ্রসাদ দাশ পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ইঞ্জিনের মবিল চুইয়ে পড়ার কারণে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে লোকোমোটিভটি সম্পূর্ণ বিকল হয়ে যায়। ফলে ট্রেনটি লাইনের ওপর আটকা থাকায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে কুলাউড়া রেলস্টেশন থেকে একটি বিকল্প ইঞ্জিন ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। সকাল সোয়া নয়টার দিকে বিকল্প ইঞ্জিন এসে আটকে পড়া ট্রেনটিকে উদ্ধার করে সিলেটের উদ্দেশে নিয়ে যায়। এরপরই রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যাত্রীদের ভোগান্তি

এদিকে সকালে ট্রেনটি আটকে পড়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা। অনেকেই সকাল সাতটার মধ্যে ট্রেন ছেড়ে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন। ট্রেনের যাত্রী মালেকা বেগম বলেন, ‘আমি সিলেট যাচ্ছিলাম। ভানুগাছের সামনে এসে ট্রেনের ইঞ্জিনে আগুন লাগায় ভোগান্তিতে পড়ি। পরে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে মৌলভীবাজার এসে বাসে সিলেট যাচ্ছি। সকালে অনেক কষ্ট হয়েছে। তা ছাড়া গতকালও ট্রেনটি ঢাকা থেকে দেরিতে ছেড়েছিল। ট্রেনে যাতায়াত এখন বেশ ভোগান্তিকর হয়ে উঠেছে।’

এই ঘটনা রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও যাত্রীদের অসুবিধা ও সময়ের অপচয় হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।