কক্সবাজারের চকরিয়ায় বাসের ধাক্কায় দুই পর্যটক নিহত, চালক পালিয়েছে
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় দুই পর্যটক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোরে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন ঢাকার উত্তরখান থানার আটিপাড়া এলাকার দুই বন্ধু শরীফুল ইসলাম (৩০) ও রাইসুল ইসলাম (৩০)।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিনের বরাতে জানা গেছে, শরীফুল ও রাইসুল দুই বন্ধু মোটরসাইকেল করে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে বেড়াতে যাচ্ছিলেন। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন বন্ধু অন্য মোটরসাইকেল নিয়ে একই গন্তব্যে রওনা দিয়েছিলেন। ভোররাতে চট্টগ্রাম থেকে আসা ‘লাল-সবুজ পরিবহন’ সার্ভিসের একটি যাত্রীবাহী বাস মহাসড়কের বানিয়ারছড়া এলাকায় পৌঁছে সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেল ও ট্রাককে পেছন থেকে প্রচণ্ড ধাক্কা দেয়।
বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি সম্পূর্ণ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং দুই আরোহী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুর্ঘটনায় আহত শরীফুল ইসলাম ও রাইসুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের বক্তব্য ও তদন্তের অগ্রগতি
চকরিয়া উপজেলার মহাসড়কের চিরিঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি আরিফুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পরপরই বাসের চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। পুলিশ দুর্ঘটনায় জড়িত বাস ও মোটরসাইকেলটি জব্দ করেছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। নিহতদের মরদেহ হাসপাতালে রাখা হয়েছে এবং তাদের স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে।
ওসি আরিফুল আমিন আরও উল্লেখ করেন, “স্বজনরা আসলে তাদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে। আমরা চালক ও সহকারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” এই ঘটনা সড়ক নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছে, বিশেষ করে পর্যটন মৌসুমে মহাসড়কে যানবাহনের গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
নিহতদের পরিচয় ও পরিবারের শোক
নিহত শরীফুল ইসলাম হলেন ঢাকার উত্তরখান থানার আটিপাড়া এলাকার শহীদ ভূঁইয়ার ছেলে। অন্যদিকে, রাইসুল ইসলাম একই এলাকার অলিউল ইসলামের ছেলে। তারা উভয়েই ত্রিশ বছর বয়সী যুবক ছিলেন এবং বন্ধুদের সঙ্গে কক্সবাজারে ছুটি কাটাতে যাচ্ছিলেন। এই আকস্মিক মৃত্যু তাদের পরিবার ও বন্ধুদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মহাসড়কের এই অংশে প্রায়ই গাড়ির দ্রুতগতি ও বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ঘটে। তারা কর্তৃপক্ষের কাছে সড়ক নিরাপত্তা জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে প্রাপ্ত প্রমাণাদি বিশ্লেষণ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং পালিয়ে যাওয়া চালক ও সহকারীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।



