টাঙ্গাইলে গোরস্থানের জমি বিরোধে সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত, ৫ জন আহত
টাঙ্গাইলে গোরস্থান জমি বিরোধে সংঘর্ষে কলেজছাত্র নিহত

টাঙ্গাইলে গোরস্থানের জমি বিরোধে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ: কলেজছাত্র নিহত, ৫ জন আহত

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় গোরস্থানের জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক মর্মান্তিক সংঘর্ষে নাঈম সওদাগর (১৭) নামে এক কলেজছাত্র নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ ও সূত্রমতে, বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে রামদেবপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে এ রক্তক্ষয়ী ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

নিহত নাঈম সওদাগর কালিহাতী উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের রামদেবপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের ওসমান আলীর ছেলে। সংঘর্ষের পর তার লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের তালিকায় রয়েছেন:

  • দেলুয়ার হোসেনের ছেলে মাজাহারুল ইসলাম (১৮)
  • আবু হানিফের ছেলে সাকিল (২৩)
  • সোনা মিয়ার ছেলে আবু বক্কর (২০)
  • আজিজুল সিকদারের ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৫)
  • আজিজুল সিকদার (৭৫)

আহতদের সকলকেই টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, সকালবেলা রাস্তায় সিকদার ও মণ্ডল বংশের লোকজনের সঙ্গে সওদাগর বংশের লোকজনের গোরস্থানের জমি নিয়ে তীব্র কথা কাটাকাটি শুরু হয়। উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে, যার ফলশ্রুতিতে কলেজছাত্র নাঈম সওদাগরের মৃত্যু ঘটে এবং অন্যান্যরা আহত হন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দীর্ঘস্থায়ী বিরোধ ও পুলিশের পদক্ষেপ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রামদেবপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামের গোরস্থানের জমি নিয়ে প্রায় তিন মাস ধরে সওদাগর বংশের সঙ্গে মণ্ডল ও সিকদার বংশের বিরোধ চলছে। এই বিরোধ এতটাই তীব্র যে গত ঈদেও দুই গ্রুপ আলাদা আলাদা স্থানে ঈদের নামাজ আদায় করেছে। কালিহাতী থানার ওসি তৌফিক আজম ঘটনার পর জানান, "গোরস্থানের জমি বিরোধের জেরেই এই সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক জন নিহত ও পাঁচ জন আহত হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।"

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে। ওসি তৌফিক আজম আরও উল্লেখ করেন যে, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই সংঘর্ষের পর গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত বিচার কামনা করেছেন।

এই ঘটনা টাঙ্গাইল জেলায় সম্প্রদায়গত উত্তেজনা ও জমি বিরোধের ভয়াবহ পরিণতির একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কর্তৃপক্ষের আশা, দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।