নাটোরে বিয়ের আগে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় যুবক নিহত, উৎসবে নেমে আসে শোকের ছায়া
নাটোরে বিয়ের আগে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

নাটোরে বিয়ের আগে প্রাইভেটকার দুর্ঘটনায় যুবক নিহত

নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় এক যুবক নিহত হয়েছেন। রবিবার (২২ মার্চ) সকাল ৮টার দিকে বড়াইগ্রামের গড়মাটি কলোনি এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তি হলেন জুলফিকার ইসলাম জিল্লু (২৯), যিনি পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া নওদাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং একজন প্রকৌশলী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ

জুলফিকার ইসলাম জিল্লু সকালে নিজের প্রাইভেটকার চালিয়ে দুধ আনতে দাশুড়িয়া থেকে নাটোরের দিকে যাচ্ছিলেন। কারণ, ঐ দিন তার বিয়ের গায়েহলুদের অনুষ্ঠান ছিল এবং পায়েস রান্নার জন্য দুধ প্রয়োজন ছিল। সকাল ৮টায় নাটোর হাইওয়ে গড়মাটি কলোনি রোডে তার গাড়িটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর গাড়িটি পাশে দাঁড়ানো একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে সম্পূর্ণ দুমড়েমুচড়ে যায়। এই ভয়াবহ ধাক্কায় জুলফিকার ঘটনাস্থলেই মৃত্যুবরণ করেন।

বিয়ের উৎসবে নেমে আসে শোকের ছায়া

জুলফিকার ইসলামের বিয়ের দিন আগে থেকেই ঠিক করা ছিল। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুনের সঙ্গে তার বিয়ের আয়োজন চলছিল। শনিবার কনের গায়েহলুদ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছিল এবং রবিবার বরের গায়েহলুদের দিন নির্ধারিত ছিল। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দুই পরিবারের বিয়ের উৎসব শোকে পরিণত হয়। বাড়িতে মাতম শুরু হয়ে যায় এবং আনন্দের পরিবেশ বিষাদের ছায়ায় ঢেকে পড়ে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চণ্ডীপুর বড় ছয়ঘটি গ্রামে অন্তরার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়ির দরজায় তালা ঝোলানো অবস্থা। ডেকোরেটরের লোকজন বিয়ের জন্য সাজানো প্যান্ডেলটি ভেঙে নিয়ে যাচ্ছিলেন, যা ঘটনার মর্মান্তিক দিকটি আরও স্পষ্ট করে তোলে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও পরিবারের বক্তব্য

বনপাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে বলেন, 'লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্বজনদের কোনও অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত করা হয়নি।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধান চলছে এবং প্রাথমিকভাবে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, জুলফিকার ইসলাম জিল্লু আনসারুল মুন্সির ছোট ছেলে ছিলেন এবং তার পরিবার এই আকস্মিক মৃত্যুতে গভীর শোকে আচ্ছন্ন। এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে এবং দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করাচ্ছে।