ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টর্চের আলো নিয়ে বিবাদে কিশোর কুপিয়ে নিহত
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় এক মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন রাতে ঘুজিয়াখাই গ্রামে টর্চের আলো চোখে লাগাকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার জেরে বাবুল মিয়া নামে এক কিশোরকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহত বাবুল মিয়া চাতলপাড় ইউনিয়নের বড়নগর গ্রামের আবু মিয়ার ছেলে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনা অনুযায়ী, ঘুজিয়াখাই ব্রীজ এলাকায় বাবুল মিয়া টর্চ জ্বালালে সেই আলো কয়েকজনের চোখে লাগে। এ নিয়ে শুরু হয় কথা-কাটাকাটি ও তীব্র বাগ্বিতণ্ডা। একপর্যায়ে ৪ থেকে ৫ জন দুর্বৃত্ত মিলে তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধীরা লাশ মেঘনা নদীর পাড়ে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। রাত সাড়ে দশটার দিকে স্থানীয়রা বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় নেতা ও পুলিশের বক্তব্য
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল গণমাধ্যমকে জানান, ঈদের দিন সন্ধ্যায় বাবুল মিয়া তার বন্ধুদের সাথে গান শুনছিল। অন্ধকারে টর্চলাইট জ্বালানোর সময় আলো কয়েকজনের চোখে লাগলে তাদের সঙ্গে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। পরবর্তীতে একপর্যায়ে ছুরিকাঘাত ও কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
নাসিরনগর থানার ওসি শাহীনুর ইসলাম ঘটনা সম্পর্কে বলেন, নিহত বাবুল মিয়ার শরীরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন রয়েছে। তবে হত্যার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
পরবর্তী অবস্থা
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাতেই বাবুল মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে এবং অপরাধীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।



