ভারতে গ্রেপ্তার ফয়সাল-আলমগীর আদালতে, হত্যা অস্বীকার
ভারতে গ্রেপ্তার ফয়সাল-আলমগীর আদালতে

ভারতের আদালতে হাজির ফয়সাল ও আলমগীর, হত্যা অস্বীকার

শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ এবং তাঁর সহযোগী আলমগীর হোসেনকে আজ রোববার ভারতের পশ্চিমবঙ্গের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। আদালত দুজনকে ১২ দিনের জন্য কারা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আগামী ২ এপ্রিল আবার হাজির হওয়ার কথা বলা হয়েছে।

গ্রেপ্তার ও জিজ্ঞাসাবাদের পরিণতি

৮ মার্চ পশ্চিমবঙ্গ-বাংলাদেশ সীমান্ত লাগোয়া বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) ফয়সাল ও আলমগীরকে গ্রেপ্তার করে। অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেপ্তারের পর পুলিশ তাঁদের ১৪ দিনের জন্য রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালায়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আজ উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা বিচার বিভাগীয় আদালতে হাজির করা হয় তাঁদের। আদালতে নেওয়ার আগে বিধাননগর পুলিশ দুজনের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করায়।

ফয়সালের হত্যা অস্বীকার

আদালতে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ফয়সাল করিম ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি এই কাজ করিনি। এসব কাজের সঙ্গে আমি যুক্ত ছিলাম না।’ সাংবাদিকরা তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে কিনা জানতে চাইলে ফয়সাল সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ সূত্রে ভিন্ন দাবি

তবে এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল ও আলমগীর ঢাকায় ওসমান হাদিকে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকায় গুলিবর্ষণের পর পুলিশি তদন্তে ফয়সালের নাম উঠে আসে। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, যে মোটরসাইকেলে এসে হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল, তাতে ফয়সাল ও আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পলায়ন ও গ্রেপ্তারের পটভূমি

হত্যাকাণ্ডের পর ফয়সাল ও আলমগীর ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালিয়ে যান বলে বাংলাদেশের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন। প্রায় তিন মাস পর ৮ মার্চ বনগাঁ এলাকা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসটিএফের ভাষ্য অনুসারে, ফয়সাল ও আলমগীর বনগাঁয় পালিয়ে এসে বাংলাদেশে ফিরে যাওয়ার সুযোগ খুঁজছিলেন, গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।

দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া

ভারতে গ্রেপ্তার এই দুজনকে বাংলাদেশে ফেরত আনার কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন। ওসমান হাদিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল, যেখানে ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের পর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের করা মামলার তদন্তে গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। তাঁদের মধ্যে ১২ জন বাংলাদেশে গ্রেপ্তার হন, এবং ভারতে ফয়সাল ও আলমগীর ছাড়াও তাঁদের পালাতে সহায়তাকারী একজন ধরা পড়েছেন।