কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা
কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষে তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

কুমিল্লার ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি গঠন, ক্ষতিপূরণ ঘোষণা

রেলওয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, কুমিল্লার পাদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন বাসযাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে তিনি নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন। ঘটনার দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

ডিজিটাল রেলগেট স্থাপনের পরিকল্পনা

প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব জানান, সরকার এনালগ সিস্টেমের পরিবর্তে ডিজিটাল রেলগেট স্থাপনের বিষয়ে চিন্তা করছে। নিরাপত্তাহীন রেলগেটগুলো দ্রুত মেরামত করা হবে। এছাড়া দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তদন্ত কমিটির কার্যক্রম

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলীয় অঞ্চলের বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, রেলওয়ের পক্ষ থেকে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং তদন্তে দায় প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি যোগ করেন, তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান বলেন, জেলা প্রশাসনও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসন নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অনুদান প্রদান করবে।

দুর্ঘটনার বিবরণ

ঈদ-উল-ফিতরের দিন শনিবার ভোরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাদুয়ারবাজার রেলক্রসিংয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রাম থেকে আসা ঢাকা মেইল ট্রেন ক্রসিং পার হওয়ার সময় চুয়াডাঙ্গা থেকে লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল পরিবহনের একটি বাস রেললাইনে উঠে এসে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেছেন, ক্রসিংয়ের গেট সম্পূর্ণভাবে নামানো হয়নি। বাসটি দ্রুত লাইনে উঠে এসে ট্রেনের সঙ্গে সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

আহতদের অবস্থা

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ৮ জন বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এছাড়া প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আরও ১৮ জনকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র অনুযায়ী, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

আক্রান্ত পরিবারের প্রতিক্রিয়া

আহতদের আত্মীয়রা ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, ক্রসিংয়ে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকলে এমন দুর্ঘটনা এড়ানো যেত। তারা দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এই ঘটনা রেলক্রসিংয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে এনেছে। সরকারের ডিজিটাল রেলগেট স্থাপনের পরিকল্পনা ও দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার মাধ্যমে ভবিষ্যতে অনুরূপ দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।