কুমিল্লায় ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যু, দুই গেটম্যান বরখাস্ত
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ১২ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হওয়ার ঘটনায় দুই গেটম্যানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। এই দুর্ঘটনায় রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার মোস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া।
তদন্ত কমিটি গঠন ও অনুদান ঘোষণা
কুমিল্লা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও একটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক মো. রেজা হাসান। তদন্ত কমিটি তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবে এবং নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
দুর্ঘটনার সময় শনিবার মেহেদী ও হেলাল নামে দুজন গেটম্যান পদুয়ার বাজারে দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং তাদের অবহেলার কারণে এই ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। কুমিল্লা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ ইদ্রিস এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহত আট জন বর্তমানে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের বেশির ভাগই মাথায় গুরুতর আঘাত পেয়েছেন। গুরুতর আহত দুই জনকে আইসিইউতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া, সামান্য আহত ১৮ জনকে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার অজয় ভৌমিক।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার কাজ
ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথে পদুয়ার বাজার লেভেলক্রসিংয়ে ঢাকাগামী ঢাকা মেইল ট্রেন লক্ষ্মীপুরগামী মামুন স্পেশাল নামে একটি বাসে ধাক্কা দেয়। ট্রেনটির গতি বেশি থাকায় বাসটিকে প্রায় এক কিলোমিটার সামনে ঠেলে নিয়ে যায়, যা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
দুর্ঘটনার প্রায় ৫ ঘণ্টা পর আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী ট্রেন ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সকাল ১০টায় বাসটিকে আপলাইন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয় এবং ঢাকা মেইল ট্রেনটি সচল করার জন্য কাজ শুরু করে উদ্ধারকারী ট্রেনের কর্মীরা।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। নিহত ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং তাদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।



