ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ঈদের নামাজের পর দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ১১
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় হামিরদী ইউনিয়নের গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার সকাল ৯টার দিকে ঈদের নামাজ আদায় শেষেই এই সংঘর্ষ শুরু হয়, যা প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী হয়।
সংঘর্ষের বিস্তারিত বিবরণ
এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, দুই পক্ষের লোকজন ঢাল, সড়কি, রামদা, ইটপাটকেলসহ বিভিন্ন অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০-১২টি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের সময় কয়েকজন আহত হন, যাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
পুলিশের হস্তক্ষেপ ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ
ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। তিনি উল্লেখ করেন, কয়েকটি বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটলেও শনিবার বিকেল পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেনি।
আহতদের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি
ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত মেডিকেল কর্মকর্তা পলাশ সাহা জানান, সংঘর্ষে আহত ১১ জন এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে ওহিদুর রহমান (৩৮) নামে এক ব্যক্তির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। দুই জন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন, বাকি ৮ জনকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের পটভূমি ও পূর্ববর্তী ঘটনা
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুটি পক্ষ দীর্ঘদিন ধরে বিরোধে জড়িত। এক পক্ষের নেতৃত্ব দেন ইসমাইল মুন্সী (৬৫), অপর পক্ষের নেতৃত্ব দেন কামরুল মিয়া (৪৫)। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে গ্রামের একটি চায়ের দোকানে কামরুল মিয়ার সঙ্গে ইসমাইল মুন্সীর ছেলে ফুয়াদ হোসেনের কথা-কাটাকাটি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এরপর বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দুই পক্ষ টর্চলাইট জ্বালিয়ে সংঘর্ষে জড়ায়, যা শনিবারের সংঘর্ষের পূর্বাভাস দিয়েছিল।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, এই সংঘর্ষ গ্রামের শান্তি-শৃঙ্খলা বিঘ্নিত করেছে এবং তারা দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেছেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।



