ভারতে প্রবেশকালে নারীসহ তিনজন আটক, পলাতক মানব পাচারকারী চক্রের হোতা
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নারীসহ তিনজনকে আটক করেছে। আটককৃতরা ভারতের মেঘালয় রাজ্যে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। তবে এই ঘটনায় পেশাদার মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা এখনও অধরাই রয়ে গেছেন।
আটকের বিস্তারিত ঘটনা
শুক্রবার (১৯ মার্চ) রাতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানায় তিনজনকে সোপর্দ করা হয়েছে। আটককৃতরা হলেন নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ উপজেলার ঝিগরওলা গ্রামের সুনীল সরকারের ছেলে মিঠুন সরকার, তার সহোদর জুটন সরকার এবং মিঠুনের স্ত্রী শায়িন্তি নম দাস।
২৮-বিজিবি সুনামগঞ্জ ব্যাটালিয়নের ট্যাকেরঘাট বিওপির সুবেদার শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে এই তিনজনকে আটক করেছেন। একইসাথে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত গ্রাম সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বড়ছড়ার রাজেন্দ্র দাসের ছেলে মানব পাচারকারী চক্রের মূল হোতা তমাল দাসকে পলাতক আসামি দেখিয়ে তাহিরপুর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বিজিবির টহল দলের সফল অভিযান
মামলা, বিজিবি এবং স্থানীয় সীমান্ত গ্রামবাসী সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিংল যাওয়ার পথে ২৮-বিজিবি ট্যাকেরঘাট বিওপির টহল দল সীমান্তের বড়ছড়া গ্রামের ১০০ গজ বাংলাদেশ অভ্যন্তরে মিঠুন, জুটন ও শায়িন্তিকে আটক করে।
বিজিবির প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানিয়েছেন, ভারতের মেঘালয় রাজ্যের রাজধানী শিংল পৌঁছে দেয়ার জন্য ভারতীয় মুদ্রায় ৩৫ হাজার রুপি নিয়েছিলেন বড়ছড়ার তমাল দাস। তমাল সীমান্তের ওপারে ভারতীয় এক নারীর মাধ্যমে শিংল পৌঁছে দেওয়ার চুক্তি করেছিলেন। তবে বিজিবির তৎপরতা লক্ষ্য করে তমাল ভারতীয় রুপি নিয়ে কৌশলে সটকে পড়েন।
স্থানীয়দের গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ
শনিবার (২১ মার্চ) বড়ছড়া সীমান্ত গ্রাম ও বড়ছড়া স্থল শুল্ক স্টেশনের একাধিক বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, আওয়ামী সরকারের পতনের পর আওয়ামী লীগ কর্মী তমাল দাস সীমান্তের জিরো লাইনের কাছে বসতবাড়ি হওয়ার সুবাদে সীমান্তের ওপারে একটি চক্রের মাধ্যমে মানবপাচারকারী চক্র গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় সূত্রে দাবি করা হয়েছে, তমাল দাস একাধিক সময়ে বাংলাদেশি নারী-পুরুষ নাগরিককে ভারতে পাচার করে প্রায় কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এছাড়াও বড়ছড়া সীমান্ত বাজার এবং নিজ বসতবাড়িতে প্রায়শই বিদেশি মদ, গাঁজা ও ইয়াবার আসর বসাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে তমাল দাসের বিরুদ্ধে।
পলাতক আসামির বক্তব্য
অভিযুক্ত পলাতক আসামি তমাল দাস টেলিফোনে এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, "আসলে মাদকের আসর নয়, বন্ধু-বান্ধব বড়ছড়া বেড়াতে এলে মাঝে মধ্যে সেবা দিতাম।"
মানব পাচার প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তমাল বলেন, "আটককৃতরা ভারতে কাজের সন্ধানে যেতে চাইলে আমি তাদের সহযোগিতা করতেই বড়ছড়ায় আসতে বলি। বিজিবি এভাবে লোকগুলোকে আটক করবে তা বুঝতে পারিনি।"
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
শনিবার সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) প্রণয় রায় মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটকৃতদের শনিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পলাতক তমাল দাসকে গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। মানব পাচার রোধে বিজিবি ও পুলিশের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



