পটুয়াখালীতে নদীতে ডুবোচর সংকট: লঞ্চ চলাচল ব্যাহত, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা
পটুয়াখালীতে নদীতে ডুবোচর সংকট, লঞ্চ চলাচল ব্যাহত

পটুয়াখালীতে নদীতে ডুবোচর সংকট: লঞ্চ চলাচল ব্যাহত, ঈদযাত্রায় ভোগান্তির শঙ্কা

ঈদের আগে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে ঢাকা-পটুয়াখালী নৌরুটে 'রোটেশন প্রথা' তুলে নেওয়া হয়েছে এবং সোমবার থেকে এই রুটে নিয়মিত লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ সার্ভিস চালুর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তবে যাত্রীসেবার এই উদ্যোগের সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নৌপথের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট ভয়াবহ ডুবোচর, যা লঞ্চ চলাচলকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে।

নদীর পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমেছে

লঞ্চচালক ও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পটুয়াখালী লঞ্চঘাট সংলগ্ন লোহালিয়া নদীর মোহনা, বগা, লক্ষিপাশা, সোনাকান্দা, কোবাই, বিশাইনকান্দি এবং মেঘনার প্রবেশমুখ গঙ্গারচর এলাকায় পানির গভীরতা আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ভাটার সময় এসব এলাকায় প্রায়ই লঞ্চ আটকে পড়ছে এবং জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে দুই থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিলম্ব হচ্ছে।

ঢাকা-পটুয়াখালী রুটের পূবালী-১২ লঞ্চের সারেং সুমন হীরা বলেন, 'ডুবোচরের কারণে ভাটার সময় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ঈদযাত্রায় চরম ভোগান্তি হবে।' একই অভিজ্ঞতার কথা জানান এমভি প্রিন্স কামাল-১ লঞ্চের চালক মো. নাসির উদ্দিন খান। তিনি উল্লেখ করেন, এখন জোয়ার-ভাটার হিসাব করেই লঞ্চ চালাতে হচ্ছে এবং মাঝপথে আটকে গেলে যাত্রীদের বিরক্তি ও সমালোচনার মুখে পড়তে হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয়দের ভোগান্তি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি

মঙ্গলবার সকালে ঢাকা থেকে লঞ্চে পটুয়াখালী আসা গলাচিপা উপজেলার আমখোলা গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, 'মাঝরাতে কোবাই এলাকায় লঞ্চ প্রায় দুই ঘণ্টা আটকে ছিল। পরিবারের সবাই নিয়ে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।' সরেজমিনে দেখা গেছে, পটুয়াখালী লঞ্চঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে পলি জমে বালুচর সৃষ্টি হয়েছে। ভাটার সময় এসব চর স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং লঞ্চ ভিড়তে গিয়ে প্রায়ই আটকে যায়। কোথাও কোথাও নদীর তীর থেকে ৬০-৭০ ফুট পর্যন্ত পানিশূন্য হয়ে পড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. কামাল হোসেন বলেন, 'লঞ্চঘাটটি কার্যত নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। ঘাট থেকে লঞ্চ ছাড়তেই দীর্ঘ সময় লাগে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এটি একসময় অচল হয়ে পড়বে।' বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সৈয়দ মোস্তাফিজুর রহমান রুমি উল্লেখ করেন, নদীনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি নাব্যতা সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ড্রেজিং কার্যক্রম ও সরকারি পদক্ষেপ

এদিকে অতিরিক্ত লঞ্চের বার্থিং নিশ্চিত করতে বিআইডব্লিউটিএ জরুরি ভিত্তিতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু করেছে। সহকারী বন্দর ও পরিবহণ কর্মকর্তা মো. জাকী শাহরিয়ার জানান, তিনটি পন্টুন এলাকা পরিষ্কার করা হয়েছে এবং বার্থিং সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। পটুয়াখালী অংশের ডুবোচর অপসারণে কাজ চলছে, বরিশাল অংশেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. মামুন-উর-রশীদ বলেন, 'নদীর স্রোত কমে যাওয়ায় পলি জমে নাব্যতা কমছে। চলতি অর্থবছরে প্রায় ২৫০ ফুট প্রস্থের নৌচ্যানেল সচল রাখার চেষ্টা চলছে।'

ঈদযাত্রায় নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

নিরাপত্তার বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম সজল বলেন, ঈদযাত্রাকে সামনে রেখে লঞ্চঘাটগুলোতে বিশেষ টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণ বন্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ এবং ছিনতাই-হয়রানি ঠেকাতে সাদা পোশাকে সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, স্থায়ী নদী শাসনের জন্য প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অতীতে ড্রেজিংয়ে অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম রোধে সরকার সজাগ থাকবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত ও কার্যকর ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন না হলে আসন্ন ঈদযাত্রায় এই নৌরুটে ভোগান্তি আরও বাড়বে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, যাত্রী এবং লঞ্চ কর্মীদের দ্রুত সমাধানের দাবি দিন দিন জোরালো হচ্ছে।