কমলাপুরে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়: একতা ও নীলসাগরের যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা
কমলাপুরে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়, যাত্রীদের ভোগান্তি

কমলাপুর রেলস্টেশনে ট্রেন শিডিউল বিপর্যয়ে যাত্রীদের দীর্ঘ অপেক্ষা

ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে বৃহস্পতিবার একতা ও নীলসাগর ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয়ের কারণে হাজার হাজার যাত্রী ব্যাপক ভোগান্তির মুখোমুখি হয়েছেন। রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এই ঘটনা স্বীকার করে জানিয়েছেন, গতকাল বুধবার বগুড়ার আদমদীঘিতে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় এ বিপর্যয় ঘটেছে।

ট্রেনের সময়সূচিতে বড় ধরনের বিলম্ব

নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি কমলাপুর থেকে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বেলা ১১টা ৪৫ মিনিটে ছেড়েছে, যা নির্ধারিত সময়ের প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর। অন্যদিকে, একতা এক্সপ্রেস ট্রেন সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলেও বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ছাড়বে বলে জানা গেছে, যা প্রায় সাত ঘণ্টা বিলম্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই শিডিউল বিপর্যয়ের ফলে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মজুড়ে সকাল থেকেই যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে, বেঞ্চে বসে অথবা ব্যাগপত্রে ভর দিয়ে তাদের ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এমনকি অপেক্ষারত একজন যাত্রী ঘুমিয়ে পড়ার দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রেল প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও ব্যবস্থা

দুপুর ১২টার সময় কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শনে আসেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। তিনি বলেন, ‘গতকাল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, যার কারণে দুটি ট্রেনের সময় বিপর্যয় ঘটেছে।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, লাইনচ্যুতির ঘটনায় স্টেশনমাস্টার ও ড্রাইভারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং রেলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সক্রিয় রয়েছেন।

নীলসাগর ট্রেনে উপচেপড়া মানুষের ভিড় দেখা গেছে, এমনকি ট্রেনের ছাদেও কয়েক হাজার যাত্রী ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একতা ট্রেনের যাত্রীরাও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন, যারা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিয়েছেন যাতে ট্রেন মিস না হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সরকারের দায়বদ্ধতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

রেল, সড়ক ও লঞ্চে নানা অব্যবস্থাপনা ও দুর্ঘটনার প্রসঙ্গে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে হাবিবুর রশিদ বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ না সফল সেটি যাত্রীদের আসা-যাওয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বোঝা যাবে।’ তিনি দুর্ঘটনায় ড্রাইভারের অবহেলার কথা স্বীকার করে বলেন, লাল পতাকা দেখানো সত্ত্বেও ড্রাইভার সতর্ক না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে রেলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করা হলেও, যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে আরও কার্যকরী পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা উঠে এসেছে। এই ঘটনা রেল ব্যবস্থাপনায় উন্নতির প্রয়োজনীয়তা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।