বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর সংস্কার লাইনে চলাচল শুরু
বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর চলাচল শুরু

বগুড়ার সান্তাহারে ট্রেন দুর্ঘটনার পর ২১ ঘণ্টা অপেক্ষার অবসান

বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের উত্তরে বাগবাড়ি এলাকায় সংঘটিত ট্রেন দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ ২১ ঘণ্টা অপেক্ষার অবসান হয়েছে। রেললাইন মেরামত এবং লাইনচ্যুত বগি উদ্ধারের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে সংস্কার লাইনের মাধ্যমে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হয়েছে।

দুর্ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার কার্যক্রম

বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী আন্তনগর নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বাগবাড়ি এলাকায় দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ট্রেনের পেছনের নয়টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার সঙ্গে ট্রেন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনায় প্রায় দুই শতাধিক যাত্রী আহত হন, যা স্থানীয় স্বাস্থ্য সেবায় চাপ সৃষ্টি করে।

দুর্ঘটনার পরপরই পাকশী ও পার্বতীপুর থেকে দুটি রিলিফ ট্রেন প্রেরণ করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে শুরু হওয়া উদ্ধার ও মেরামত কার্যক্রম বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে রাজশাহীর প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ মাসুম জানান, ‘দুই পাশে দুটি রিলিফ ট্রেনের মাধ্যমে উদ্ধার কাজ দ্রুত সম্পন্ন হয়েছে। সবার সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ মেরামত করা সম্ভব হয়েছে।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও চলাচলের নতুন নির্দেশনা

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন বগুড়া-৩ (আদমদীঘি-দুপচাঁচিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ, বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান এবং রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সংসদ সদস্য আবদুল মহিত তালুকদার বলেন, ‘দুর্ঘটনার বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পশ্চিমাঞ্চল রেল কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, সংস্কার লাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হলেও আগের চেয়ে ধীরগতিতে চলবে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে পার্বতীপুর থেকে খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি এই সংস্কার লাইন ব্যবহার করে গন্তব্যস্থলে পৌঁছায়, যা যাত্রীদের জন্য স্বস্তির খবর বয়ে আনে।

দুর্ঘটনার প্রভাব ও ভবিষ্যৎ সতর্কতা

এই দুর্ঘটনা উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটায়, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও যাত্রী চলাচলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। কর্তৃপক্ষের দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম প্রশংসা পেলেও, রেল নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে। ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু হলেও ধীরগতির নির্দেশনা যাত্রীদের সময়সূচিতে কিছুটা বিলম্ব ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রেল কর্তৃপক্ষ ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে নজরদারি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, যাতে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়। স্থানীয়রা আশা করছেন, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।