ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ
ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ এবং যমুনা সেতু সংযোগ সড়কে রাতে একাধিক গাড়ি বিকল হওয়ায় ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এই যানজট প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বিস্তৃত, যা যাত্রীদের জন্য মারাত্মক ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি কষ্ট ভোগ করছেন।
যানজটের কারণ ও সময়কাল
বুধবার (১৮ মার্চ) দিনগত রাত থেকে যমুনা সেতুর টোল প্লাজা থেকে করাতিপাড়া পর্যন্ত থেমে থেমে যানজট চলছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কে ধীর গতি বিরাজ করছে। এছাড়া, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশের তৎপরতা চললেও যান চলাচল এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
যাত্রীদের বর্ণনা ও অভিজ্ঞতা
গাজীপুরের টুঙ্গি থেকে আসা সবুজ মিয়া বলেন, "গত রাতে বাস না পেয়ে ট্রাকে উঠেছি। দেড় ঘণ্টার সড়ক আসতে সময় লেগেছে প্রায় ১২ ঘণ্টা। মহাসড়কের পৌলিতে এসেও আটকে আছি। রোদ ও গরমে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।"
রাজশাহী যাওয়ার পথে থাকা নারীযাত্রী রেহেনা বেগম জানান, "চন্দ্রার পর থেকে যানজট। একটু যায়, আবার আটকে যায়। এভাবে ৮ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল আসলাম।"
আরেক যাত্রী খোরশেদ মিয়া অভিযোগ করেন, "কোনো বাসেই আসন ফাঁকা নেই। দাঁড়ানোর জায়গাও নেই। বাধ্য হয়ে তিনগুণ বেশি ভাড়া দিয়ে ট্রাকে যাচ্ছি। রোদে কষ্ট হচ্ছে।"
পুলিশের বক্তব্য ও পদক্ষেপ
এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরিফ বলেন, "যানবাহনের চালকদের বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে মহাসড়কে ধীর গতি রয়েছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত যান চলাচল স্বাভাবিক হবে বলে আমরা আশা করছি।"
এই যানজটের ফলে টাঙ্গাইল ও আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে, এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমাধানের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। যাত্রীদের সহনশীলতা ও সহযোগিতা কামনা করা হচ্ছে এই কঠিন সময়ে।



