বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুতের ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
বগুড়ায় ট্রেন দুর্ঘটনার ২১ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুতের ২১ ঘণ্টা পর উত্তরাঞ্চলে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক

বগুড়ার সান্তাহার উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ার প্রায় ২১ ঘণ্টা পর বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে সারাদেশের ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। দুর্ঘটনার পর রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় উদ্ধার অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু

বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা ২০ মিনিটে চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল শুরুর মধ্য দিয়ে এই রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়। রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহমদ হোসেন মাসুম সাংবাদিকদের জানান, ‘গতকাল দুর্ঘটনা হওয়ার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশে আমরা এখানে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করি। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগিগুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে এবং রেললাইন মেরামতের কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারবো। চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যাবে। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করবে। সেই সাথে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্ঘটনার বিস্তারিত ও তদন্ত

উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর ২টায় ঈদযাত্রায় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন বগুড়ার সান্তাহার রেলওয়ে জংশন ছেড়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর বাগবাড়ী নামক এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এতে ট্রেনের ৯টি কোচ লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পর দায়িত্ব অবহেলার কারণে সান্তাহারের সহকারী স্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম রঞ্জুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

রেলওয়ে পশ্চিম অঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহমেদ জানান, ‘গতকাল দুর্ঘটনার পর থেকে রেলওয়ের কর্মকর্তারা উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সন্ধ্যায় ঈশ্বরদী থেকে একটি রিলিফ ট্রেন এবং পার্বতীপুর থেকে আরেকটি রিলিফ ট্রেন এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। সারারাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে বগিগুলোকে লাইন থেকে অপসারণ করা হয়েছে। রেললাইন মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। আমরা এই অবস্থাতে ট্রেন চালাতে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘চিলাহাটি থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী সীমান্ত এক্সপ্রেস ট্রেনটি বেলা ১১টা ২০ মিনিটে যাত্রীসহ প্রথমে যায়। লাইন নির্মাণ কাজ মোটামুটি স্বাভাবিক। এই স্থানটিতে ট্রেনগুলো ধীর গতিতে চলাচল করছে। সেই সঙ্গে আমাদের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। ঈদের আগ মুহূর্তে এমন দুর্ঘটনার জন্য দেশবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি।’

এই দুর্ঘটনা উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটালেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ট্রেন চলাচল ধীর গতিতে পরিচালনা করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।