সদরঘাটে নৌ দুর্ঘটনা: দুটি নৌযানের রুট পারমিট স্থগিত, দুই তদন্ত কমিটি গঠন
ঈদের আগের ভিড়ে রাজধানীর সদরঘাটে একটি লঞ্চ ও যাত্রীবাহী ট্রলারের সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু ও দুইজন নিখোঁজের ঘটনায় সরকার দুটি নৌযানের রুট পারমিট স্থগিত করেছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) আলাদা তদন্ত কমিটি গঠন করেছে, যাদের তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
দুর্ঘটনার বিবরণ ও তৎপরতা
বুধবার সন্ধ্যা প্রায় ৫টার দিকে ঢাকা–ইলিশা (ভোলা) রুটে যাত্রীরা নৌযানে উঠার সময় জাকির সম্রাট-৩ নামের একটি লঞ্চ পেছন থেকে একটি যাত্রীবাহী ট্রলারে ধাক্কা মারে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, কেরানীগঞ্জ থেকে আসা যাত্রীরা একটি লঞ্চে উঠার চেষ্টা করছিলেন, তখনই এই সংঘর্ষ ঘটে। সংঘর্ষের পর লঞ্চটি টার্মিনাল থেকে দ্রুত চলে যায় বলে জানা গেছে।
এই ঘটনায় কমপক্ষে দুইজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা একজন নারীকে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যিনি এখনও শকে রয়েছেন এবং কথা বলতে পারছেন না। কর্তৃপক্ষ বলেছে, কমপক্ষে দুইজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাদের খোঁজে অভিযান চলছে।
মন্ত্রীর বক্তব্য ও পদক্ষেপ
নৌপরিবহন বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ রাজিব আহসান রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং দায়ীদের “দৃষ্টান্তমূলক” শাস্তির ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, আহতরা বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের একই পরিবারের সদস্য, যাদের মধ্যে একজন গর্ভবতী নারী রয়েছেন। তিনি তাদের যথাযথ চিকিৎসা ও সরকারি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআইডব্লিউটিএ গঠিত তদন্ত কমিটিগুলো দ্রুত প্রতিবেদন জমা দেবে এবং এর ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এই দুর্ঘটনা ঈদের আগের ভিড়ের সময় ঘটেছে, যা নৌ নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দুটি নৌযানের রুট পারমিট স্থগিত করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধ করা যায়। কর্তৃপক্ষ নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজে অভিযান অব্যাহত রেখেছে এবং আহতদের চিকিৎসার জন্য সর্বাত্মক সহায়তা প্রদান করছে।



