ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে স্বস্তির পরিবেশ
ঈদে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে যাত্রীদের স্বস্তি

ঈদে ঘরমুখো যাত্রীদের জন্য দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে স্বস্তির পরিবেশ

পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে রাজবাড়ী জেলার দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে লাখো মানুষ বাড়ি ফিরছেন। নদী পার হয়ে আসা যানবাহনের চাপ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও যাত্রীদের মধ্যে কোনও ভোগান্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিআইডব্লিউটিসির কার্যকর ব্যবস্থাপনায় ঘরমুখো মানুষ নির্বিঘ্নেই পারাপার করছেন, যা ঈদের এই ব্যস্ত সময়ে একটি ইতিবাচক দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

যানবাহন চাপ ও ব্যবস্থাপনা

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে শুরু করে, যা নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের পূর্বপ্রস্তুতির ইঙ্গিত দেয়। বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) ঘাট সূত্রে জানা গেছে, ঈদের সময় যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট-বড় মিলিয়ে মোট ১৭টি ফেরি চালু রাখা হয়েছে। এছাড়াও, ২০টি লঞ্চ নিয়মিত চলাচল করছে, যা যাত্রী সেবাকে আরও গতিশীল করেছে।

জরুরি পণ্য, শিশুখাদ্য ও পচনশীল দ্রব্যবাহী যানবাহন ছাড়া অন্যান্য পণ্যবাহী ট্রাক চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় ঘাট এলাকায় যানজট তৈরি হয়নি। পদ্মা সেতু চালুর পর থেকে বেশিরভাগ যানবাহন সেতুপথ ব্যবহার করলেও কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, যশোর, মাগুরা, ফরিদপুর ও রাজবাড়ী অঞ্চলের অনেক পরিবহন এখনো এই নৌপথেই চলাচল করছে। ঘাট ব্যবহারকারী যাত্রী ও চালকদের মধ্যেও স্বস্তির পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়েছে, যা নৌপরিবহন খাতের উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

জেলা প্রশাসকের পরিদর্শন ও নির্দেশনা

ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার দৌলতদিয়া বাস টার্মিনাল, মাইক্রো স্ট্যান্ড, ফেরি ও লঞ্চ ঘাট পরিদর্শন করেছেন। তিনি ফেরি সার্ভিস, নৌপথে লঞ্চসহ বিভিন্ন জলযান সুষ্ঠুভাবে চলাচল নিশ্চিতকল্পে ঘাটের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মনজুর মোরশেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম, নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহাসহ ঘাট ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটের বিভিন্ন দিক ঘুরে দেখেন এবং যাত্রীদের সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।

এছাড়াও, যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে ঘাট এলাকার শৃঙ্খলা রক্ষার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দিকনির্দেশনা দেন তিনি। পরিদর্শনকালে তিনি ঘাটে চলাচলকারী যানবাহনের সংখ্যা, যাত্রী সেবা, টিকিট ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। ঘাট এলাকার অব্যবস্থাপনা বা কোনও সমস্যা থাকলে তা দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময়

জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং তাদের অসুবিধার কথা শোনেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে প্রশাসন যাত্রীদের সুবিধার্থে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পরিদর্শন শেষে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনা আরও উন্নত করার জন্য পরামর্শ দেন।

এসময় তিনি পরিবহন সেক্টরে যারা দায়িত্বে আছেন তাদের নামের তালিকা ও মোবাইল নম্বর প্রশাসনের কাছে জমা দিতে বলেন, যা দ্রুত যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানে সহায়ক হবে। এই পদক্ষেপগুলি নৌপথে যাত্রী সেবার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।

সামগ্রিকভাবে, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঈদের সময় যাত্রীদের জন্য স্বস্তির পরিবেশ বজায় রাখতে বিআইডব্লিউটিসি ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রশংসনীয়। এটি নৌপরিবহন খাতের দক্ষতা ও যাত্রী-কেন্দ্রিক সেবার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।