ঈদুল ফিতরের সাত দিনের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রা এবার স্বস্তিদায়ক হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ ২০২৬) সকাল থেকেই যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে, যদিও গাড়ির চাপ বেড়েছে। কুমিল্লার ১০৪ কিলোমিটার অংশে এখনো পর্যন্ত কোনো যানজটের খবর নেই, যা বিগত বছরের তুলনায় একটি উল্লেখযোগ্য উন্নতি।
চালক ও যাত্রীদের স্বস্তি
এবারের ঈদ যাত্রায় চালক ও যাত্রীরা ব্যাপক স্বস্তি প্রকাশ করছেন। কুমিল্লা এশিয়ান পরিবহনের চালক আবুল কালাম জানান, তিনি মাত্র ২ ঘণ্টা ১৫ মিনিটে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, "পুলিশের সক্রিয়তা থাকলে আশা করি পুরো যাত্রাপথেই যানজট থাকবে না।"
এক যাত্রী কামাল হোসনে উল্লেখ করেন, প্রতি বছর তিনি অতিরিক্ত ২-৪ ঘণ্টা সময় হাতে নিয়ে যাত্রা শুরু করতেন, কিন্তু এবারের যাত্রা সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি বলেন, "মাত্র আড়াই ঘণ্টায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পৌঁছেছি। পুলিশ ও প্রশাসনকে ধন্যবাদ।"
হাইওয়ে পুলিশ ও সড়ক বিভাগের উদ্যোগ
দাউদকান্দি হাইওয়ে পুলিশের ওসি ইকবাল বাহার মজুমদার জানান, এবারের ঈদযাত্রাকে তারা একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছেন। তিনি বলেন, "ঘরমুখো মানুষের যাত্রা আনন্দদায়ক করতে আমরা ২৪ ঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থান করছি। যদিও গাড়ির চাপ বেড়েছে, বিশেষ করে চট্টগ্রামমুখী লেনে, তবুও যান চলাচল স্বাভাবিক আছে।"
যানজটপ্রবণ এলাকা চিহ্নিতকরণ
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, যাত্রীদের বিড়ম্বনা ও ডাকাতির উৎপাত কমাতে কুমিল্লা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ২৭টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব স্থানে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা নজরদারি করছে। উল্লেখযোগ্য কিছু স্থান হলো:
- কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বলদাখাল বাসস্ট্যান্ড ও গৌরীপুর বাসস্ট্যান্ড
- চান্দিনা বাজার, মাধাইয়া বাজার ও কুটুম্বপুর বাজার
- কুমিল্লা সদরের পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকা
- ফেনীর বিসিক মোড় ও লালপোল এলাকা
- চট্টগ্রামের মীরসরাই, সীতাকুণ্ড বাসস্ট্যান্ড ও ভাটিয়ারি পয়েন্ট
প্রশাসনিক প্রস্তুতি
কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার শাহীনুর আলম বলেন, যানজট কমানোর জন্য পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, "আগাম ব্যবস্থার ফলে ঈদে ঘরমুখো মানুষের ভোগান্তি থাকবে না এবং তারা নির্বিঘ্নে বাড়ি ফিরতে পারবে।"
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা যোগ করেন, যানজটমুক্ত রাখতে হাইওয়ে পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, "মহাসড়কের উন্নয়ন কাজ চলছিল এমন এলাকাগুলোতে কাজ বন্ধ রেখে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করা হয়েছে। ফলে এবারের ঈদে ভোগান্তি কমবে বলে আমরা আশাবাদী।"
সামগ্রিকভাবে, এবারের ঈদ যাত্রায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে পূর্বপ্রস্তুতি ও সক্রিয় তদারকির কারণে যাত্রীরা তুলনামূলকভাবে স্বস্তি পাচ্ছেন। তবে যানবাহনের চাপ বাড়লেও এখনো পর্যন্ত যানজটমুক্ত পরিবেশ বজায় রয়েছে, যা জাতীয় এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কে একটি ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
