সিলেটের গোয়াইনঘাটে ভারতীয় কসমেটিকস পণ্যসহ আটক ৮, জব্দ ১২ লাখ টাকার মালামাল
সিলেটের গোয়াইনঘাটে পুলিশের একটি অভিযানে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল ভারতীয় কসমেটিকস পণ্যসহ আটজনকে আটক করা হয়েছে। বুধবার (১১ মার্চ) সকালে উপজেলা সদরের ব্রিজের পাশে গোয়াইনঘাট থানার এসআই মো. মোজাম্মেল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের সময় সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিভিন্ন ব্র্যান্ডের আনুমানিক ১২ লাখ ৩৮ হাজার ৮৪৫ টাকার ভারতীয় পণ্যসহ দুটি প্রাইভেটকার জব্দ ও চালকসহ ৮ জনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন:
- নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার মীরকুটিরয়েও গ্রামের হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে শাওন আহমদ
- নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার বাজবী তাঁতিপাড়া গ্রামের আজিম উদ্দিন মোল্লার ছেলে মো. সুমন মোল্লা ও মো. স্বপন মোল্লা
- একই এলাকার মৃত রবিউল ইসলামের ছেলে মো. তামিম
- সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার কালিনগর গ্রামের নুর আহমেদের ছেলে মো. আলমগীর হোসেন
- ঠাকুরগাঁও জেলার বাণী শংকেল এলাকার মৃত ছমির উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ রেজাউল করিম
- কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর উপজেলার রামধন গ্রামের মৃত আব্দুল বাড়ির ছেলে মো. রুবেল সরকার
- গোয়াইনঘাট উপজেলার কালিনগর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে জুয়েল আহমেদ
পুলিশের বক্তব্য ও আইনি পদক্ষেপ
গোয়াইনঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, আটকদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে। এই ঘটনাটি সীমান্ত অঞ্চলে চোরাচালানের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
অভিযানে জব্দ করা পণ্যগুলো মূলত ভারতীয় কসমেটিকস সামগ্রী, যা স্থানীয় বাজারে অবৈধভাবে বিক্রির উদ্দেশ্যে আনা হচ্ছিল বলে পুলিশ সন্দেহ করছে। এই ধরনের কার্যক্রম দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, কারণ এটি সরকারি রাজস্ব হ্রাস করে এবং বৈধ ব্যবসায়ীদের প্রতিযোগিতায় অসুবিধা সৃষ্টি করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই এলাকায় মাঝেমধ্যেই চোরাচালানের ঘটনা ঘটে থাকে, তবে পুলিশের সাম্প্রতিক অভিযানটি একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠাচ্ছে যে, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়াইনঘাট থানা কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকলে সীমান্ত অঞ্চলে অবৈধ কার্যক্রম হ্রাস পাবে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।



