হবিগঞ্জে বিজিবির অভিযানে ১.৫৫ কোটি টাকার জিরা ও চশমা উদ্ধার
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী নোয়াহাটি এলাকায় বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) একটি বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে। এই অভিযানে বালুভর্তি একটি সন্দেহভাজন ট্রাক থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও বিভিন্ন প্রকার চশমা উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত পণ্যগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বলে বিজিবি সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির একটি বিশেষ দল মাধবপুর উপজেলার নোয়াহাটি এলাকায় অবস্থান নেয়। এই দলটি সীমান্ত এলাকায় চলাচলকারী বিভিন্ন গাড়িতে তল্লাশি চালানো শুরু করে। ভোর ৪টার দিকে একটি বালুভর্তি ট্রাককে সংকেত দিয়ে থামানো হয় এবং সন্দেহের তালিকায় রাখা হয়।
পরবর্তীতে ট্রাকটি তল্লাশি চালিয়ে বালুর নিচে বস্তার ভেতরে লুকানো বিপুল পরিমাণ ভারতীয় জিরা ও বিভিন্ন ধরনের চশমা পাওয়া যায়। বিজিবি কর্মকর্তারা দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পণ্যগুলো জব্দ করেন এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাকটিকে আটক করেন।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
হবিগঞ্জ ৫৫ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজিলুর রহমান মঙ্গলবার রাত ৯টায় এই অভিযানের সাফল্য নিশ্চিত করে বলেন, "আমরা সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত তল্লাশি চালাচ্ছি এবং এই অভিযানে আমরা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পণ্য উদ্ধার করতে পেরেছি। আটককৃত জিরা ও চশমার আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।"
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, উদ্ধারকৃত পণ্যগুলো এখন কাস্টমস অফিসে হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
অভিযানের গুরুত্ব ও প্রভাব
এই অভিযানটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে বিজিবির সক্রিয় ভূমিকার একটি উজ্জ্বল উদাহরণ। সীমান্ত এলাকায় অবৈধ পণ্য পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
- অবৈধ পাচার রোধ: জিরা ও চশমার মতো পণ্যগুলো প্রায়শই অবৈধভাবে পাচার হয়ে থাকে, যা দেশের অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
- সীমান্ত নিরাপত্তা: এই ধরনের অভিযান সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়তা করে।
- আইনশৃঙ্খলা: বিজিবির দ্রুত পদক্ষেপ অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা বিজিবির এই সফল অভিযানের জন্য প্রশংসা জানিয়েছেন এবং ভবিষ্যতেও এমন পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
