বঙ্গোপসাগরে অবৈধ মাছ ধরায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৩৭ জেলে ও তিনটি ট্রলার জাহাজ আটক
বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং নৌকা ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাছ ধরার সময় কোস্ট গার্ডের অভিযানে ৩৭ জন জেলে ও তিনটি মাছ ধরার নৌকা আটক হয়েছে। আটক জেলেদের বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হয়েছে শুক্রবার সকালে।
অভিযানের বিস্তারিত বিবরণ
মংলার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, বুধবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ আর্টিসানাল ট্রলিং নৌকা ব্যবহার করে মাছ ধরছিল জেলেরা। কোস্ট গার্ডের একটি টহল জাহাজ সিজিএস সোনার বাংলা অভিযান চালিয়ে তিনটি মাছ ধরার নৌকা আটক করে।
আটক নৌকাগুলোর নাম হলো এফবি মায়ের দোয়া-২৭, সীমা-২ এবং আসমা। এই নৌকাগুলোর সাথে ৩৭ জন জেলেকে আটক করা হয়। জেলেরা বরগুনার পাথরঘাটা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
আটক নৌকা ও জেলেদের ভাগ্য
আটক হওয়া নৌকাগুলোকে মংলায় নিয়ে আসা হয় এবং পরে মংলা ফেরিঘাটে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম বলেন, নৌকাগুলোতে পাওয়া মাছ সম্পর্কে আদালতের নির্দেশনা অনুসরণ করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মংলা থানার ওসি (তদন্ত) মাণিক চন্দ্র গাইন নিশ্চিত করেছেন যে ৩৭ জন জেলে ও তিনটি আর্টিসানাল ট্রলিং নৌকা শুক্রবার সকালে বাগেরহাট আদালতে হাজির করা হয়েছে। এই ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
অবৈধ মাছ ধরা ও পরিবেশগত প্রভাব
বঙ্গোপসাগরে নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মাছ ধরা সামুদ্রিক পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। আর্টিসানাল ট্রলিং নৌকা ব্যবহার করে মাছ ধরা হলে সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মৎস্য সম্পদ হ্রাস পায়। কোস্ট গার্ডের নিয়মিত টহল ও অভিযান এই ধরনের অবৈধ কার্যক্রম রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে কোস্ট গার্ড সামুদ্রিক সীমানা পাহারা দিচ্ছে এবং অবৈধ মাছ ধরা প্রতিরোধে কঠোর অবস্থান বজায় রেখেছে। এই অভিযান সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই মৎস্য চাষের দিকে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
