গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ১ নিহত, ১০ আহত
গোপালগঞ্জে আধিপত্য সংঘর্ষে ১ নিহত, ১০ আহত

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আধিপত্য নিয়ে সংঘর্ষে ১ নিহত, ১০ আহত

গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ১ জন নিহত এবং অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে আনোয়ার মুন্সী গ্রুপ ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।

ঘটনার বিবরণ

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ার মুন্সী ও নূর ইসলাম গ্রুপের মধ্যে আধিপত্য নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। সোমবার বেলা ১১টার দিকে প্রথমে আনোয়ার মুন্সীর ছেলেরা হাসপাতাল গেটে নূর ইসলামকে আক্রমণ করে, যাতে নূর ইসলাম আহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় নূর ইসলামের লোকজন আনোয়ার মুন্সীর বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের নারীসহ মোট ১১ জন আহত হন। প্রথমে আহতদের মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে মারাত্মক আহত নিলু মুন্সী (৫০), তার স্ত্রী রুপা বেগম (৪০), ভাই মিলন মুন্সী (৫২) এবং দুলাল মুন্সীকে (৪০) উন্নত চিকিৎসার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে নিলু মুন্সীকে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের অবস্থা

অপর পক্ষের নূর ইসলামকে (৩৩) মুকসুদপুর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি আহতরা মুকসুদপুর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা পেয়েছেন। এলাকায় এখন থমথমে ভাব বিরাজ করছে এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত রয়েছেন।

পুলিশের বক্তব্য

মুকসুদপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এলাকার শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সেনা ও র‌্যাব সদস্যরা উপস্থিত রয়েছেন।" তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

এই ঘটনা গোপালগঞ্জের স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। আধিপত্য নিয়ে এই ধরনের সংঘর্ষ সাম্প্রতিক সময়ে একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা স্থানীয় শান্তি বিঘ্নিত করছে।