বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের গুলিতে দুই জেলে আহত
গভীর বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলায় দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নুর আলম খান (৪০) ও শাহজাহান মিয়া (৩৮) নামের এই জেলেদের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার বিবরণ
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৪টার দিকে সুন্দরবন সংলগ্ন নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এর প্রায় ২০ ঘন্টা পর রোববার দিবাগত রাত ১১টার দিকে আহত জেলেরা পটুয়াখালীর মহিপুর ঘাটে এসে পৌঁছান।
পাথরঘাটা উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের মাছেরখাল গ্রামের মো. দুলাল মিয়ার মালিকানাধীন এফবি জাহিদ নামের ট্রলারে থাকা ১৪ জন জেলের মধ্যে এই দুই জন গুলিবিদ্ধ হন।
আহত জেলেদের পরিচয়
নুর আলম খানের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার সদর পাথরঘাটা ইউনিয়নের বড় টেংরা গ্রামে। অন্যদিকে শাহজাহান মিয়ার বাড়ি একই ইউনিয়নের বাদুরতলা গ্রামে অবস্থিত।
মাঝির বর্ণনা
এফবি জাহিদ ট্রলারের মাঝি ফারুক ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে বলেন, "শনিবার রাত ৪টার দিকে বঙ্গোপসাগরের নারিকেলবাড়িয়া এলাকায় জাল টানার সময় হঠাৎ একটি ট্রলার এসে কোন কিছু বোঝার আগেই আমাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া শুরু করে।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এ সময় আমাদের জেলেরা দিকবিদিক হয়ে ছুটাছুটি করলে দুই জেলে গুলিবিদ্ধ হয়। ট্রলারের একাধিক জায়গায় গুলির চিহ্ন রয়েছে।"
ফারুকের মতে, নুর আলমের পিছনে গুলি লাগে এবং শাহজাহানের বাম চোখের নিচে গুলি বিদ্ধ হয়। রোববার রাত ১১টার দিকে মহিপুর ঘাটে এসে কলাপাড়ায় নিয়ে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় নেতার প্রতিক্রিয়া
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, "সাগরে জেলেরা গুলিবিদ্ধ হয়েছে। তবে কোন জলদস্যু বাহিনী এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তা জানা যায়নি। গুলিবিদ্ধ দুই জেলেকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
এই ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায়ে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, এবং নিরাপত্তা বিষয়ে জোর দাবি উঠছে।
