জাতীয় মহাসড়কে গাছের গুঁড়ি দখল: অর্থনৈতিক অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি
জাতীয় মহাসড়কগুলো দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে কাজ করে, যেখানে সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে। সম্প্রতি প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের চড়িয়ারবিল বাজার থেকে কুলচারা মোড় পর্যন্ত সড়কের দুই পাশ দখল করে গাছের গুঁড়ি রেখে অবৈধ ব্যবসা চালানো হচ্ছে। এটি কেবল একটি স্থানীয় সমস্যা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রুটে সরাসরি হস্তক্ষেপ, যা পণ্য পরিবহন ও আঞ্চলিক সংযোগকে ব্যাহত করছে।
যান চলাচলে বাধা ও দুর্ঘটনার ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি
প্রথম আলোর খবর অনুযায়ী, ঝিনাইদহ–কুষ্টিয়া মহাসড়ক ধরে প্রতিদিন চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহী অঞ্চল থেকে খুলনা এবং মোংলা বন্দরের দিকে অসংখ্য দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল করে। পাশাপাশি স্থানীয় ছোট যানবাহনও সড়কের কিনারা ব্যবহার করে চলাফেরা করে। সেখানে বড় বড় গাছের গুঁড়ি স্তূপ করে রাখার ফলে চলাচলের স্বাভাবিক পরিসর মারাত্মকভাবে সংকুচিত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলা বা প্রতিকূল আবহাওয়ায় এই অবস্থা মারাত্মক দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে, যা জননিরাপত্তাকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
প্রশাসনের নীরবতা ও অনিয়মের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ
কাঠ ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুসারে, কেউ তাঁদের এই অবৈধ কার্যকলাপ থেকে নিষেধ করেনি। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নীরবতা বা শিথিলতা এই অনিয়মকে প্রায় স্বীকৃত চর্চায় পরিণত করেছে। মিলকেন্দ্রিক ব্যবসার সুবিধা কিংবা ক্রেতার দৃষ্টি আকর্ষণের যুক্তি দিয়ে প্রধান সড়ক দখলকে কখনোই বৈধতা দেওয়া যায় না। বাণিজ্যিক স্বার্থ কখনোই জননিরাপত্তার ঊর্ধ্বে হতে পারে না, এবং পথের ওপর বা কিনারায় পণ্য সাজিয়ে রাখা সরাসরি আইনের লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হয়।
সমাধানের পথ: দায়িত্বশীলতা ও বিকল্প পরিকল্পনা
এখানে কেবল ব্যবসায়ীদের দায় দেখলে পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার কথা নয়। বেআইনি দখলদারির ক্ষেত্রে শুরুতেই দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া গেলে তা বিস্তার লাভ করত না। বরং বছরের পর বছর সহনশীল মনোভাব অনিয়মকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সমাধান খুঁজতে হবে, যেমন:
- কাঠ ব্যবসায়ীদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান নির্ধারণ করা, যেখানে নিরাপদে গুঁড়ি মজুত ও বিক্রি করা যাবে।
- মিলের ভেতরে জায়গা সীমিত হলে বিকল্প গুদাম বা পরিকল্পিত বাণিজ্যিক জোন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া।
- রাস্তার পাশ অবিলম্বে দখলমুক্ত করতে অভিযান পরিচালনা করা এবং পুনর্দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করা।
জাতীয় সড়ক কেবল যান চলাচলের পথ নয়, এটি দেশের বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থার মূল অবকাঠামো। সেখানে সামান্য অবহেলাও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। ঝিনাইদহ–কুষ্টিয়া মহাসড়কের পাশ থেকে গাছের গুঁড়ি সরাতে জরুরি উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন, কারণ জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস গ্রহণযোগ্য নয়।
