ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৬ জন আহত
নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধে গুলিতে ৬ আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে অবৈধ বালু উত্তোলন বিরোধে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ৬ জন আহত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ জানালে সন্ত্রাসীদের গুলি হামলায় স্থানীয় ছয় ব্যক্তি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। রোববার সকালে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং গ্রামে এ হামলা চালানো হয়, যা এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।

আহতদের পরিচয় ও চিকিৎসা অবস্থা

গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিরা হলেন চরলাপাং গ্রামের নুরুল আমীন (৪২), রউফ মিয়া (৪৫), সফর মিয়া (৫০), সিয়াম হোসেন (১৬), জসিম উদ্দিন (৪০) ও ইব্রাহিম (৩০)। তাঁদের প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়, পরে চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. হাবিবুর রহমান জানান, আহতরা সবাই ছররা গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসেছিলেন। কারও অবস্থা আশঙ্কাজনক নয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক গাজী আহমদ হাসান উল্লেখ করেন, দুজন রোগীর এক্স-রে প্রতিবেদনে ছররা গুলিবিদ্ধ হওয়ার প্রমাণ মিলেছে।

ঘটনার পটভূমি ও স্থানীয়দের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে মেঘনা নদীতে অবৈধভাবে অর্ধশতাধিক খননযন্ত্রের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে নদী-তীরবর্তী চরলাপাং গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা কৃষিজমি ও বসতবাড়ির জন্য হুমকি সৃষ্টি করছে। গ্রামবাসী বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানালেও প্রতিকার পাচ্ছেন না, বরং সন্ত্রাসীরা কৃষিজমি থেকে জোরপূর্বক ফসল কেটে নিয়ে যাচ্ছে।

আহত নুরুল আমীন ও রউফ মিয়া হাসপাতালে শয্যাশায়ী অবস্থায় বলেন, নরসিংদীর রায়পুরা ইউনিয়নের মির্জাপুরের একটি প্রভাবশালী মহল অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চালাচ্ছে। আজ সকালে গ্রামবাসী একত্র হয়ে প্রতিবাদ জানালে ২০ থেকে ৩০ জন সন্ত্রাসী স্পিডবোটে এসে হামলা চালায়, যাদের সবার হাতে অস্ত্র ছিল। এ সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দৌড়ে পালানোর সময় আরও কয়েকজন আহত হন।

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

ঘটনার খবর পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক ও নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে যায়। নবীনগর থানার ওসি রফিকুল ইসলাম জানান, তিনজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে এবং হামলাকারীরা পলাতক রয়েছে।

নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, চরলাপাংয়ে কোনো বালুমহাল ইজারা দেওয়া নেই, তাই এখানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। তিনি জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছেন এবং নরসিংদীর সঙ্গে যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য এম এ মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, ঘটনার পরপরই তিনি পুলিশকে বালু সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বালু সন্ত্রাসীদের কঠোর হাতে দমন করা হবে এবং এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো হবে।

এ ঘটনা স্থানীয়ভাবে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিনের সংঘাতের একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা প্রশাসনিক ও আইনগত হস্তক্ষেপের জরুরি প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।