বগরায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মৃত্যুতে উত্তাল এলাকা, মহাসড়ক অবরোধ
বগরার শাহজাহানপুর উপজেলায় বেটগাড়ি এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত নারীর মৃত্যুতে স্থানীয় বাসিন্দারা ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। শুক্রবার সকালে বেটগাড়ি লিচুতলা বাইপাস সংযোগস্থলে এই অবরোধের ঘটনা ঘটে, যার ফলে উভয় দিকের যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে এবং যাত্রীরা দীর্ঘ সময় ধরে আটকে পড়েছেন।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বেটগাড়ি এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কে একটি বাস পিছন থেকে একটি ই-বাইককে ধাক্কা মারার মাধ্যমে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় চারজন গুরুতর আহত হন, যাদের মধ্যে ই-বাইক চালকও রয়েছেন।
নিহত নারীর পরিচয়: আহতদের মধ্যে ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী চামেলী খাতুন, যিনি জুয়েলের স্ত্রী। তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৯ ফেব্রুয়ারি রাত আনুমানিক ২টার দিকে মৃত্যুবরণ করেন।
আহতদের অবস্থা
চামেলী খাতুনের দুই বছর বয়সী ছেলে সয়াদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে, যেখানে চিকিৎসকরা তার ডান পা কেটে ফেলতে বাধ্য হন। আরেক শিশু নেহা এবং ই-বাইক চালক সেলিম বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বিক্ষোভ ও অবরোধের ঘটনা
চামেলী খাতুনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা শুক্রবার সকাল আনুমানিক ৯টা ৪৫ মিনিটে বেটগাড়ি লিচুতলা বাইপাস সংযোগস্থলে জমায়েত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন শুরু করেন।
এই অবরোধের ফলে ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের উভয় দিকেই যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণরূপে ব্যাহত হয়। দীর্ঘ যানজটে আটকে পড়েন অসংখ্য যাত্রী, যা এলাকায় ব্যাপক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।
অবরোধ প্রত্যাহার
স্থানীয় সংসদ সদস্যের আশ্বাস পাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে মহাসড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। তবে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের অবরোধই এলাকার যান চলাচলে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক দুর্ঘটনা ও এর পরবর্তী বিক্ষোভের ঘটনাটি আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
