আসামের জাতীয় সড়কে অবতরণ করলেন মোদি, কৌশলগত গুরুত্বে জরুরি রানওয়ে
বাংলাদেশ সীমান্তসংলগ্ন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে জাতীয় মহাসড়কে অবতরণ করেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বহনকারী সি–১৩০জে সামরিক পরিবহন বিমান। জরুরি অবতরণের সুবিধাসহ নির্মিত এই মহাসড়ক কাম রানওয়েতে তাঁর অবতরণকে কৌশলগত দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি এ খবর নিশ্চিত করেছে।
জরুরি অবতরণ সুবিধার প্রথম ব্যবহার
আসামের মোরান এলাকায় জাতীয় সড়কে নির্মিত উত্তর-পূর্ব ভারতের প্রথম জরুরি অবতরণ সুবিধাসম্পন্ন ইএলএফ-এ এই অবতরণ ঘটে। রাজ্যে আসন্ন নির্বাচনের প্রাক্কালে একদিনের সফরের সূচনায় সামরিক বিমানে করে সেখানে পৌঁছান মোদি। আসামে পৌঁছে তিনি চাবুয়া বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়ন করে জাতীয় সড়ক–৩৭-এর মোরান অংশে নির্মিত ইএলএফ-এ অবতরণ করেন, যা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
মোদির বক্তব্য ও অবকাঠামোর গুরুত্ব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মোদি বলেন, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় এই অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। প্রায় ১০০ কোটি রুপি ব্যয়ে নির্মিত ৪ দশমিক ২ কিলোমিটার দীর্ঘ মোরান বাইপাসের শক্তিশালী অংশটি ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান ও পরিবহন বিমানের জন্য বহুমুখী রানওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হবে। এতে প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি, সরবরাহব্যবস্থা ও দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেসামরিক ও সামরিক ব্যবহারযোগ্যতা
বেসামরিক ও সামরিক, উভয় কাজে ব্যবহারযোগ্য এই সুবিধা জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দরের বিকল্প হিসেবে কাজ করবে। এখানে সর্বোচ্চ ৪০ টন ওজনের যুদ্ধবিমান এবং ৭৪ টন ওজনের পরিবহন বিমান অবতরণ করতে পারবে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও যোগাযোগে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভারতের প্রথম ইএলএফ ২০২১ সালে রাজস্থানের বারমের জেলায় চালু করা হয়, এবং আসামে এর প্রয়োগ কৌশলগত দিক থেকে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
বিমান প্রদর্শনী ও উন্নয়ন প্রকল্প
অবতরণের পর প্রায় ৪০ মিনিটের একটি বিমান প্রদর্শনী উপভোগ করেন মোদি। এতে তেজস, সুখোই ও রাফালসহ বিভিন্ন যুদ্ধবিমান অংশ নেয়, যা সামরিক শক্তির প্রদর্শন হিসেবে দেখা যায়। সফরকালে তিনি একাধিক উন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর গুয়াহাটি ও নর্থ গুয়াহাটিকে সংযুক্তকারী একটি সেতুর উদ্বোধন রয়েছে, যা যানজট কমানো ও যোগাযোগ উন্নত করতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে, রাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ভৌগোলিক ও কৌশলগত গুরুত্ব
ভৌগোলিকভাবে আসামের এই অঞ্চলটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশের সিলেট সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৬০০ কিলোমিটার এবং রংপুর সীমান্তের দূরত্ব প্রায় ৭০০ কিলোমিটার। পাশাপাশি চীন সীমান্তও তুলনামূলক কাছাকাছি অবস্থিত, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে এই রানওয়ের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ডিব্রুগড় বিমানবন্দর বা চাবুয়া বিমানঘাঁটি ব্যবহার অনুপযোগী হলে এই মহাসড়ক রানওয়ে হিসেবে ব্যবহৃত হবে, ফলে প্রতিরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে নমনীয়তা বৃদ্ধি পাবে।
