ফরিদপুরের ভাঙ্গায় বাস দুর্ঘটনায় দুই নিহত, ৩০ আহত; আরেক সংঘর্ষে ২০ আহত
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় এক মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনায় দুই জন নিহত ও ৩০ জন আহত হয়েছেন। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে ভাঙ্গা উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের সুয়াদি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। একই দিনে আরেকটি বাস সংঘর্ষে ২০ জন আহত হয়েছেন, যা এলাকায় নিরাপত্তা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে নড়াইলগামী ‘নড়াইল এক্সপ্রেস’ নামের বাসটি ভাঙ্গা উপজেলার সিসিপিএল পেট্রোল পাম্পের সামনে তেল নিতে প্রবেশ করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এ সময় সামনে থেকে একটি মুরগি বোঝাই পিকআপ গাড়ি চলে এলে বাসচালক ব্রেক কষেন, কিন্তু বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। ঘটনাস্থলেই দুই জন নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন বাসের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম। অপর নিহতের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হয়নি।
আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা
আহত ৩০ জনকে উদ্ধার করে ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদেরকে ফরিদপুর ও ঢাকার হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, ভোট উপলক্ষে লাখো মানুষ ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরছেন, যা যানবাহনের চাপ বাড়িয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি করছে।
আরেকটি বাস সংঘর্ষের ঘটনা
একই দিনে, ভাঙ্গা উপজেলার কৈডুবী এলাকায় ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে দুপুর পৌনে ১টার দিকে আরেকটি দুর্ঘটনা ঘটে। ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহন ও বরিশালগামী ইউনিক পরিবহনের দুটি বাস মুখোমুখি সংঘর্ষে ২০ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের ভাঙ্গা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও উদ্ধার অভিযান
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এসআই মামুন জানান, খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায়। দুর্ঘটনাস্থলে দুই জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং গুরুতর আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উল্টে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে ভাঙ্গা হাইওয়ে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
সতর্কতা ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ভোটের সময় যাত্রী চাপ বৃদ্ধি ও রাস্তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এ ধরনের দুর্ঘটনা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ ও যানবাহন পরিদর্শন জোরদারের পরামর্শ দিয়েছেন।
