ভারতের কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শিলিগুড়ি করিডর বা 'চিকেনস নেক' ঘিরে নিরাপত্তা আরও জোরদারের ঘোষণা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার। মঙ্গলবার (১২ মে) শিলিগুড়িতে এক সাংবাদিক সম্মেলনে উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক জানান, সীমান্তবর্তী বেড়াহীন এলাকাগুলোতে দ্রুত ফেন্সিং নির্মাণ এবং নিরাপত্তা অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজ শুরু করা হবে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, সীমান্ত সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।
জমি অধিগ্রহণ ও ফেন্সিং নির্মাণ
তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছেন, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় জমি অধিগ্রহণ করে কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে হস্তান্তর করা হবে, যাতে সীমান্ত এলাকায় দ্রুত ফেন্সিং নির্মাণ সম্পন্ন করা যায়। ভৌগোলিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এই শিলিগুড়ি করিডর ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে মূল ভূখণ্ডের একমাত্র স্থল সংযোগ। এই সরু করিডরের একদিকে বাংলাদেশ, অন্যদিকে নেপাল ও ভুটান এবং কাছাকাছি চীন সীমান্ত রয়েছে। ফলে অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে বিবেচিত।
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও নির্বাচনী ইস্যু
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সীমান্তে পর্যাপ্ত কাঁটাতার না থাকায় অনুপ্রবেশ এবং নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বাড়ছিল। এ বিষয়ে আগে থেকেই দলটির পক্ষ থেকে কড়া অবস্থান নেওয়া হয়েছিল। নিশীথ প্রামাণিক বলেন, সীমান্ত সুরক্ষা এবং 'ডেমোগ্রাফিক পরিবর্তন' ঠেকানোর প্রশ্ন এবারের নির্বাচনে বড় ইস্যু ছিল। তিনি বলেন, মানুষ বুঝতে পেরেছেন দেশের নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাঁটাতারবিহীন সীমান্ত এলাকাকে ব্যবহার করে অনুপ্রবেশ ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। পূর্ণাঙ্গ ফেন্সিং নির্মাণ সম্পন্ন হলে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে। মন্ত্রী জানান, শিলিগুড়ি করিডরের নিরাপত্তা জোরদারে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গঠনের পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। এতে সীমান্ত নজরদারি, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর চলাচল আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি দাবি করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, সীমান্ত নিরাপত্তা ও অনুপ্রবেশ ইস্যুকে সামনে রেখে পশ্চিমবঙ্গের নতুন সরকার উত্তরবঙ্গে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক অবস্থান আরও শক্ত করার চেষ্টা করছে। একই রাজনৈতিক শক্তি কেন্দ্র ও রাজ্যে ক্ষমতায় থাকায় এসব প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের সম্ভাবনাও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।



