সিলেটে মাত্র ৭২ ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি পৃথক ছিনতাইয়ের ঘটনায় মোট ৭০ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে এখনো লুণ্ঠিত অর্থের কোনো হদিস পায়নি পুলিশ।
প্রথম ঘটনা: গোলাপগঞ্জে ২০ লাখ টাকা ছিনতাই
সোমবার (১১ মে) বিকেলে গোলাপগঞ্জ পৌর এলাকার দাড়িপাতন এলাকায় ২০ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। রাজাগঞ্জ ইসলামী এজেন্ট ব্যাংকের দুই কর্মী ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করে অটোরিকশায় ফিরছিলেন। পথে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ছয় সশস্ত্র ছিনতাইকারী তাদের গতিরোধ করে টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়।
গোলাপগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক মো. জালাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিকাল ৩টার দিকে এজেন্ট শাখার দুই কর্মী শাখা থেকে ২০ লাখ টাকা উত্তোলন করে ফেরার পথে ছিনতাইয়ের শিকার হন। ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী ও ব্যাংক কর্মকর্তা সাফওয়ান আহমদ জানান, ছিনতাইকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের গতিরোধ করে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে মুহূর্তের মধ্যে টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।
গোলাপগঞ্জ মডেল থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই তদন্ত শুরু হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্য-প্রযুক্তির মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
দ্বিতীয় ঘটনা: মোগলাবাজারে ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা লুট
এর আগে শুক্রবার (৮ মে) মোগলাবাজার থানার লালমাটিয়া এলাকায় সিলেট মহানগর বিএনপি সভাপতি নাসিম হোসাইনের মালিকানাধীন বিকাশ ডিলার প্রতিষ্ঠান ‘হোসাইন টেলিকম’-এর ৫০ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই হয়। এ ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনো লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধার হয়নি।
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার মোহাম্মদ মনজুরুল আলম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। লুণ্ঠিত অর্থ উদ্ধারে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশের চিরুনি অভিযান
এদিকে সিলেট জেলা ও মহানগর পুলিশের একাধিক দল দুটি বড় ছিনতাইয়ের যোগসূত্র ও নেপথ্যের হোতাদের শনাক্তে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে। পাশাপাশি বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেনে পুলিশি সহায়তা নেওয়ার জন্য গ্রাহকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।



