চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কোতোয়ালি থানা পুলিশ ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতিকালে একটি চক্রের পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। শুক্রবার (৮ মে) রাতে কোতোয়ালি থানার লালদীঘিরপাড় এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা
গ্রেফতাররা হলেন— ফারুকুজ্জামান মুমিন, জুয়েল রানা, তানভীর হোসেন শারফিন, বেলাল হোসেন ও সোহেল রানা। তাদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
চার মাসে ১৪০০ অপরাধী গ্রেফতার
এ নিয়ে গত চার মাসে প্রায় এক হাজার ৪০০ অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। এর মধ্যে রয়েছে শীর্ষ সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, ডাকাত চক্র এবং বিভিন্ন মামলার পলাতক আসামি। ২২ মামলার আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী ডিপজলও পুলিশের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। এছাড়া ১৬টি মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত একাধিক আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
অ্যাম্বুলেন্সে ইয়াবা পরিবহণ ব্যর্থ
পুলিশ জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে অ্যাম্বুলেন্সে রোগীর পরিবর্তে এক লাখ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা পরিবহণের চেষ্টাও ব্যর্থ করে দিয়েছে থানা পুলিশের চেকপোস্ট। গত মঙ্গলবার ব্রিকফিল্ড রোডের পাথরঘাটা পুলিশ ফাঁড়ির পশ্চিম পাশে বিশেষ চেকপোস্ট বসিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স থেকে এক লাখ পাঁচ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন- চন্দনাইশ থানার দোহাজারী পৌরসভার আলীপাড়া এলাকার অ্যাম্বুলেন্স চালক শহিদুল ইসলাম খান সাগর (২৭) এবং তার সহযোগী মো. আফসার (৩৩)। ইয়াবাগুলো অ্যাম্বুলেন্সের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল বলে তারা স্বীকার করেছে।
অন্যান্য গ্রেফতারি
এর আগে দেশীয় অস্ত্রসহ সাত্তার শাহ ওরফে ডিপজলকে গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, ডাকাতি, খুন, বিশেষ ক্ষমতা আইন ও মাদকসহ ২২টি মামলা রয়েছে। এছাড়া ১৬টি মামলায় তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। গত ২ মে নিউমার্কেট এলাকা থেকে ১৩ মামলার আসামি আবদুস শুক্কুরকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্কুর লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর থানাধীন উদমারা গ্রামের হানিফ মোস্তফার ছেলে। ৫ জানুয়ারি টাইগারপাস এলাকা থেকে পাঁচটি অস্ত্র মামলার আসামি মনিরকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়। একই অভিযানে পুলিশের এসআই সাঈদ রানার ওপর হামলাকারী শাকিল ও আরিফকেও গ্রেফতার করে অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
ওসির বক্তব্য
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. আফতাব উদ্দিন বলেন, কোতোয়ালি সিএমপির একটি গুরুত্বপূর্ণ থানা। রিয়াজউদ্দিন বাজার, টেরিবাজার ও নিউমার্কেটের মতো বড় বাণিজ্যিক কেন্দ্র এ থানার আওতাধীন। এসব এলাকায় ছিনতাইকারী ও ডাকাত চক্র সক্রিয়। তাদের গ্রেফতারে পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, শুক্রবার গ্রেফতার হওয়া পাঁচজন বিভিন্ন ছিনতাই ও ডাকাত চক্রের সক্রিয় সদস্য। তারা ফলমন্ডি, রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের টার্গেট করে ছিনতাই ও ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
এ সময় পৃথক অভিযানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ছিনতাই হওয়া দুই লাখ টাকা উদ্ধার, চার ছিনতাইকারী গ্রেফতার, চোরাই প্রাইভেট কার, মোটরসাইকেল ও কাপড় উদ্ধার করা হয়। ছিনতাই হওয়া একাধিক মোবাইল ফোনও উদ্ধার করে মালিকদের ফেরত দেওয়া হয়।



