নেত্রকোনার কলমাকান্দায় চোরাই ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য ছাড়িয়ে নিতে এক চোরাকারবারির সঙ্গে পুলিশের এক উপপরিদর্শকের (এসআই) ঘুষের দর কষাকষির অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহারের পর থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে বদলি করা হয়েছে।
অডিও ভাইরাল ও তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা
বুধবার রাতে অন্তত দুটি অডিও ক্লিপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে কলমাকান্দা থানার এসআই আবু হানিফের সঙ্গে কথিত চোরাকারবারি জসিম উদ্দিনের ঘুষের অঙ্ক নিয়ে আলোচনা শোনা যায়। অডিও ভাইরাল হওয়ার পর রাতেই এসআই আবু হানিফকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
বৃহস্পতিবার কলমাকান্দা থানার ওসি মো. সিদ্দিক হোসেনকে কেন্দুয়া থানার পেমই তদন্তকেন্দ্রে বদলি করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ।
পুলিশ সুপারের বক্তব্য
জেলা পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, অডিওটি নজরে আসার পরপরই অভিযুক্ত এসআইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকারকে প্রধান করে গঠিত তদন্ত কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে ওসি সিদ্দিক হোসেনের বদলিকে ‘নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ’ বলে দাবি করেন পুলিশ সুপার। তিনি বলেন, এর সঙ্গে অন্য কোনো ঘটনার সম্পর্ক নেই।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি পিকআপ থেকে ১৮ বস্তা ভারতীয় প্রসাধনী পণ্য জব্দ করে পুলিশ। জব্দ করা পণ্যের মধ্যে বডি স্প্রে, শ্যাম্পু ও অলিভ অয়েল ছিল। এ সময় পিকআপের চালক নাছিম (২৩) ও তার সহকারী মনির হোসেনকে (২১) আটক করা হয়। পরে তাদেরসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন উপজেলার রাজনগর গ্রামের জসিম উদ্দিন (৩৫)।
অডিওর বর্ণনা
ভাইরাল হওয়া ৫ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের একটি অডিওতে জসিম উদ্দিনকে এসআই আবু হানিফকে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আপনাকে ৮০ হাজার টাকা দেব। আপনি আমাকে মামলা দেবেন না। শুধু দুই বস্তা মাল আটক দেখাবেন।’ জবাবে এসআইকে বলতে শোনা যায়, ‘না ভাই, যা বলছি তার কম হবে না। আপনি তিন লাখ টাকা দেন, আপনার উপকার হবে।’
আরেকটি ৩ মিনিট ১২ সেকেন্ডের অডিওতে এসআই আবু হানিফকে বলতে শোনা যায়, ‘আপনি যা করবেন তাড়াতাড়ি করেন... আপনার জন্য আমি ছাড় দিলাম, আড়াই লাখ টাকা নিয়ে আসেন।’ পরে জসিম উদ্দিনকে দুই লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে শোনা যায়।
অডিওগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি যুগান্তর। তবে ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা শুরু হয়েছে। পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত এসআই আবু হানিফ ও জসিম উদ্দিনের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে বদলিকৃত ওসি মো. সিদ্দিক হোসেন বলেন, এসব ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত নই। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।



