রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মীর সঙ্গে ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের ধস্তাধস্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনা গতকাল মঙ্গলবার (৫ মে) শাহবাগ এলাকায় ঘটেছে বলে জানা গেছে। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্ট মধ্যবয়সী এক ব্যক্তিকে শার্টের কলার চেপে ধরে আছেন। এক পর্যায়ে তিনি পিস্তলও বের করে হাতে নেন।
ঘটনার বিবরণ
পরে ওই ব্যক্তিকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেও দীর্ঘক্ষণ এ নিয়ে উভয়পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করতে থাকেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়া ওই ব্যক্তি সারোয়ার জাহান সুমন, আর ট্রাফিক সার্জেন্টের নাম রেজাউল করিম।
সারোয়ার জাহানের বক্তব্য
রেজাউল করিম জানান, তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অফিস সহায়ক হিসেবে কর্মরত। তিনি ঘটনার দিন সাভার পরিবহনে করে কলাবাগানে স্টাফ কোয়ার্টারে যাচ্ছিলেন। শাহবাগ চত্বর পার হওয়ার সময় এক ট্রাফিক সার্জেন্ট বাসের হেলপারের গায়ে আঘাত করেন। এরপর তিনি গিয়ে এর প্রতিবাদ করে বলেছেন, কারও গায়ে আঘাত করা ঠিক না। এ কথা বলা মাত্রই সেই ট্রাফিক সার্জেন্ট তার শার্টের কলার চেপে ধরেন।
ট্রাফিক সার্জেন্টের বক্তব্য
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে রেজাউল করিম বলেন, 'আমরা রোড ডাইভারসনের কাজ করছিলাম, সেখানে এক হেল্পার এসে বেয়াদবি করেছিল। তাকে বলা হয়েছে, এখান থেকে চলে যাও। এ সময় এই ব্যক্তি এসে আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমি আমার বডি-ওর্ন ক্যামেরা অন করেছি। ক্যামেরাটা উনি কেড়ে নিয়ে ফেলে দিয়েছেন। পরে তিনি নিজের মোবাইল ক্যামেরা অন করেছেন। আমি যখন আমার মোবাইল ক্যামেরা অন করছিলাম, তিনি আমার মোবাইলও কেড়ে নিয়েছেন।'
ওই ব্যক্তি সেখানে মব তৈরির চেষ্টা করেছেন অভিযোগ করে পুলিশের এই সদস্য দাবি করেন, ঘটনাস্থলে কয়েকজন ব্যক্তি তাকে ঘিরে ধরে আক্রমণ করে এবং তার সরকারি বডি ক্যামেরা টানাটানি করে। তিনি বলেন, 'আমি ক্যামেরা অন করার পর সে আমার ক্যামেরা টানতে যায়। আমার নিরাপত্তার জন্য আমি অস্ত্র ধরতে বাধ্য হই। তারা আমাকে ধাক্কা দেয় এবং সরকারি কাজে বাধা দেয়।'
অভিযুক্ত ব্যক্তির পাল্টা বক্তব্য
এ সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, 'তিনি (পুলিশ) নিজেই উত্তেজিত হয়ে ক্যামেরা টান দিয়েছেন, পরে সেটা পড়ে যায়। আমি ক্যামেরা তুলে তাকে দিতে চাই, কিন্তু তিনি নেননি। এরপর আমার মোবাইল নিয়ে নেন।' তিনি আরও দাবি করেন, 'আমাকে মারতে মারতে এখানে আনা হয়েছে। এখানে এনে আমাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। আমার শরীরে আঘাতের চিহ্ন আছে।'
থানায় আপস
এ বিষয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'ওই ঘটনায় থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। তারা নিজেদের মধ্যে আপস-মিমাংসা করেছেন।'



