রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) কার্যালয়ে দরপত্র জমা দেওয়ার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় যুবদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী মহানগর যুবদলের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন- রাজশাহী নগরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু এবং ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আজিজুল ইসলাম।
কারণ দর্শানোর নোটিশ
এই দুই নেতাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। নোটিশে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিবের কাছে সশরীরে উপস্থিত হয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। তবে সিসিটিভি ফুটেজে তাদের সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে দেখা যাওয়ায় নোটিশের অপেক্ষা না করে তাদের বহিষ্কার করা হয় বলে জানান মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম।
থানায় অভিযোগ
এদিকে, টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (০৬ মে) আরডিএর পক্ষ থেকে শাহমখদুম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয় বলে জানান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন। তিনি বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বহিষ্কারের কারণ
রাজশাহী মহানগর যুবদলের সদস্য (দপ্তরে সংযুক্ত) মাসুদুল হক মৃধা মোমিন স্বাক্ষরিত বহিষ্কারের চিঠিতে বলা হয়েছে, আরডিএ কার্যালয়ে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং সংগঠনের নীতি-আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। বহিষ্কৃতদের কোনো কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না।
ঘটনার বিবরণ
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মঙ্গলবার সকালে যুবদলের নেতাকর্মীরা দরপত্র জমা দিতে যান। এ সময় তারা দাবি করেন, আগেই কিছু দরপত্র বাক্সে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আগে যেসব দরপত্র বাক্সে পড়েছে সেগুলো বাদ দিতে হবে। এখন শুধু তারাই দরপত্র দাখিল করবেন। আরডিএ কর্মকর্তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন, গত ২৭ এপ্রিল থেকেই দরপত্র দাখিল চলছে। কিন্তু ১৮ নম্বর ওয়ার্ড (দক্ষিণ) যুবদলের আহ্বায়ক মো. ধলু কোনো কথা না শুনে পুলিশের সামনে থেকেই টেন্ডার বাক্স ছিনিয়ে নিয়ে অফিসের করিডরে চলে যান। পরে টেন্ডার বাক্স থেকে আগের দরপত্রগুলো বের করা হয়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে টেন্ডার বাক্স ছিনতাইয়ের সময় পুলিশকে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ১৬ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম, যুবদল নেতা শরিফ, সাগরসহ আরও কয়েকজনকে দেখা যায়। কয়েক মিনিট পর ভবনের চারতলা থেকে বাক্সটি উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভবনের সামনে কয়েকজন যুবকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। দুপুর পর্যন্ত এলাকায় উত্তেজনা ছিল।
প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল হঠাৎ ভবনে ঢুকে বাক্সটি নিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে শাহ মখদুম থানার কয়েকটি ওয়ার্ডের স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলের নেতাকর্মীদের দেখা যায়। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় বাক্সটি খোলা হয়। তখন চারটি গ্রুপে মোট নয়টি দরপত্র বাক্সে পাওয়া যায়। এর মধ্যে একটি গ্রুপের জন্য বাক্সে দরপত্র ছিল পাঁচটি। বাকি তিনটি গ্রুপের দরপত্র পাওয়া যায় চারটি। মাত্র আড়াই লাখ টাকার এই জিনিসপত্র কিনতে প্রায় ৪৫০ জন শিডিউল কিনেছিলেন।
আরডিএ কর্মকর্তার বক্তব্য
আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী শেখ কামরুজ্জামান বলেন, ‘দরপত্র বাক্সটি পুলিশের পাহারায় ছিল। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তি জোর করে বাক্সটি নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরে উদ্ধার করে পুলিশ।’ আরডিএর সহকারী প্রকৌশলী কাজী আসাদুজ্জামান বলেন, ‘পুলিশের সামনেই দরপত্র বাক্স ছিনতাই করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র জমা নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তাদের দাবি ছিল যে মঙ্গলবার যেগুলো জমা হবে শুধু সেগুলোই নিতে হবে। তারা বাক্স থেকে অন্য দরপত্র বের করে দেখেছেন। সেগুলো পরে বাক্সে ঢোকানো হয়েছে কিনা জানি না। বাক্স অফিস ছাড়া অন্য কেউ খুলতে পারে না।’
নিলামের বিবরণ
আরডিএ সূত্রে জানা গেছে, কয়েকটি শৌচাগারের পুরনো দুটি বিলবোর্ড, আরডিএ পার্কের ছোট-বড় ২৭টি গাছ, ঢাকা লিয়াজোঁ অফিসের পাঁচটি সোলার প্যানেল, ১৪টি ব্যাটারি, লিফটের ভাঙা যন্ত্রাংশসহ কিছু পুরোনো জিনিসপত্র বিক্রির জন্য সম্প্রতি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। গত ২৭ এপ্রিল থেকে দরপত্র গ্রহণ শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র দাখিলের শেষ সময় ছিল। শেষ দিন সকাল থেকেই টেন্ডার বাক্সের পাশে পুলিশ ছিল।



