দালালের নির্যাতনে জর্জরিত হয়ে ৮ মাস পর বাড়ি ফিরল তরুণ সাকিব
দালালের নির্যাতনে ৮ মাস পর বাড়ি ফিরল তরুণ সাকিব

শরীরে দালালদের নির্যাতনের ক্ষত নিয়ে প্রায় আট মাস পর বাড়ি ফিরেছেন যশোরের তরুণ সাকিব হোসেন। রোববার দুপুরে বাঘারপাড়া উপজেলার কিসমত মাহমুদপুর গ্রামে নিজ বাড়িতে ফিরে তিনি জানান নেপালে বন্দী অবস্থায় প্রতিদিন মারধর ও ছুরি দিয়ে ভয় দেখানোর মতো নির্মম নির্যাতনের ঘটনা। ভ্যানচালক পিতা আলমগীর হোসেন (৪৪) ছেলেকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠাতে দালালের হাতে ১৫ লাখ টাকা দিয়েছিলেন, কিন্তু তাকে নেপালে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখা হয়।

নেপালে বন্দী জীবন

সাকিব (২১) জানান, গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর তাকে কাঠমান্ডু নিয়ে যাওয়া হয়। বিমান নামার পর বুঝতে পারেন তিনি নেপালে আছেন। দালালের লোক তার পাসপোর্ট ও ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ডলার নিয়ে নেয়। পরে তাকে নর্থ বেঙ্গল হোটেলে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। সেখানে তিনটি শয্যা ছিল, কিন্তু তাকে বের হতে দেওয়া হতো না। প্রতিদিন মারধর করা হতো এবং ছুরি দিয়ে ভয় দেখানো হতো।

চার মাস পর তাকে নতুন লোকেরা একটি নির্জন বাড়ির বেজমেন্টে নিয়ে যায়। সেখানে আলো-বাতাসের অল্প ব্যবস্থা ছিল। তিন দিন পর তাকে ভাত দেওয়া হয়। প্রতিদিন মারধরের পাশাপাশি একদিন তার পেটে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। শেষের ১৫ দিন মারধর বন্ধ ছিল।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পরিবারের অবস্থা

ছেলেকে ফিরে পেয়ে সাকিবের মা সোনালী বেগম (৩৮) খুশি হলেও দেনার বোঝায় কষ্টে আছেন। পিতা আলমগীর হোসেন বলেন, 'ছেলেকে বিদেশ পাঠাতে ২২ শতক জমির মধ্যে ১৪ শতক ভিটাবাড়ি ও ৮ শতক লিচুবাগান বিক্রি করেছি। ইঞ্জিনচালিত ভ্যানটিও বিক্রি করেছি। পাঁচটি এনজিও থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা লোন নিয়েছি। এখন আয়ের পথ নেই। পাওনাদারেরা প্রতিদিন বাড়ি এসে বসে থাকে। কী খাব আর কী করে টাকা পরিশোধ করব, কিছুই বুঝতে পারছি না।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অগ্রগতি

আলমগীর হোসেন গত ১৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন ট্রাইব্যুনাল-১-এ মামলা করেন। আদালতের নির্দেশে বাঘারপাড়া থানার ওসি মামলাটি এজাহার হিসেবে নথিভুক্ত করেন। মামলায় তরিকুল ইসলাম (৪৫) ও নাজমুল হোসেনকে (৩৫) আসামি করা হয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তা এসআই গোবিন্দ কুমার মণ্ডল বলেন, 'সাকিব দেশে ফিরেছেন। আসামিরা পলাতক। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।'

ফিরে আসার পথ

সাকিব জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে তাকে নিয়ে ভারতের শিলিগুড়ি আসা হয়। সেখান থেকে জলপাইগুড়ি, পরে পায়ে হেঁটে একটি নদী পার করে নীলফামারী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। শনিবার রাতে ট্রেনে বাড়ি ফিরেন। তার শরীর খুব দুর্বল, ওজন অনেক কমে গেছে।