পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তে সংঘর্ষের ঘটনা নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আত্তাউল্লাহ তারার বরাত দিয়ে সংবাদমূলক সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১ মে) রাতে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর উপজাতীয় জেলায় আফগান সীমান্তরক্ষীদের হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে বলে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ উল্লেখ করেন।
হামলার বিবরণ
পাকিস্তানের দাবি, বৃহস্পতিবার বাজাউর জেলায় আফগান সীমান্তরক্ষীরা ‘উসকানিবিহীন ও অপরাধমূলক হামলা’ চালায়, যাতে ১২ জন আহত হন। এর পরের দিন শুক্রবার ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ নামের একটি গোষ্ঠী কোয়াডকপ্টার দিয়ে হামলা চালায়, যাতে ক্রিকেট খেলতে থাকা তিনজন বেসামরিক ব্যক্তি আহত হন। পাকিস্তান সরকার ‘ফিতনা আল খাওয়ারিজ’ বলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) সন্ত্রাসীদের উল্লেখ করে এবং তাদের কাবুলের সমর্থনপুষ্ট বলে অভিযোগ করে।
আফগানিস্তানের প্রতিক্রিয়া
ইসলামাবাদের এই অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কাবুলের কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে অতীতে আফগানিস্তান টিটিপিকে সমর্থনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এর আগে চলতি সপ্তাহে আফগানিস্তান অভিযোগ করে, পাকিস্তানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে অন্তত চারজন বেসামরিক নিহত এবং ৩০ জন শিক্ষার্থীসহ ৭০ জন আহত হয়েছেন। কাবুল জানায়, ওই হামলায় বসতবাড়ির পাশাপাশি সায়েদ জামালউদ্দিন আফগানি বিশ্ববিদ্যালয়ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের অবস্থান
তথ্যমন্ত্রী তারার কাবুলের এই অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান কেবল সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও সহায়ক অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায় এবং বেসামরিক ক্ষতি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে। উভয় পক্ষের এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।



