পঞ্চগড় সীমান্তে আটক দুই কিশোরকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিএসএফ
পঞ্চগড়ের মিস্ত্রিপাড়া সীমান্ত থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া দুই বাংলাদেশি কিশোরকে প্রায় আট ঘণ্টা পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সীমান্তে বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে এই ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
ঘটনার বিবরণ ও উদ্ধার প্রক্রিয়া
বুধবার সকাল ১০টার পর পঞ্চগড় সদর উপজেলার গরিনাবাড়ী ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া-পাটশিরি সীমান্ত থেকে বিএসএফ সদস্যরা ইন্দ্র (১৪) ও উদয় (১৪) নামের দুই কিশোরকে ধরে নিয়ে যান। স্থানীয় সূত্র ও বিজিবির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই দুই কিশোর পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের রসেয়া এলাকার বাসিন্দা। তারা স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে এসে সীমান্ত এলাকার চা-বাগান দেখতে গিয়েছিল।
এ সময় তারা সীমান্তের ৪১৭ নম্বর মেইন পিলারের ১০ নম্বর সাবপিলার-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে বাংলাদেশ-ভারতের শূন্যরেখা অতিক্রম করে ফেলেন। ভারতের মরিচা বিএসএফ ক্যাম্পের টহল দলের সদস্যরা তাদের আটক করে। খবর পেয়ে বিজিবির মীরগড় বিওপির সদস্যরা দ্রুত বিএসএফের সঙ্গে যোগাযোগ করে কিশোরদের ফেরত চান।
পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েসও ভারতের ১৩২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ড্যান্টের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে বাংলাদেশি নাগরিকদের ফেরত দেওয়ার জন্য জোরালো অনুরোধ জানান। এই তৎপরতার ফলশ্রুতিতে, কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ দুই কিশোরকে ফেরত দেয়।
কিশোরদের অবস্থা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
ফেরত দেওয়ার পর রাত সাড়ে আটটার দিকে বিজিবি কর্তৃপক্ষ ইন্দ্র ও উদয়কে তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে। আটোয়ারী উপজেলার রাধানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল চন্দ্র বর্মন জানান, কিশোররা ভুলক্রমে সীমান্তে চলে গিয়েছিল এবং তারা এখন সুস্থ আছে ও নিরাপদে বাড়ি ফিরছে।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল আবদুল্লাহ মোহাম্মদ কায়েস মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি জানার পরপরই আমরা ওই দুই কিশোরকে ফেরত আনতে তাৎক্ষণিক তৎপরতা শুরু করি। পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিএসএফ তাদের ফেরত দিয়েছে, যা একটি ইতিবাচক দিক।”
এই ঘটনাটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে নিয়মিত সংঘটিত হওয়া অনুরূপ ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি, যেখানে দ্রুত কূটনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে পাওয়া যায়। বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে এই সহযোগিতা সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক দিকগুলোর গুরুত্ব তুলে ধরে।



