নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, ১০ জন আহত
জমি বিরোধে সংঘর্ষে নারী নিহত, ১০ জন আহত

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় জমি বিরোধে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: এক নারী নিহত, ১০ জন আহত

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় জমি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সংঘর্ষে সোমা আক্তার (২৮) নামে এক তরুণী নিহত হয়েছেন এবং উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে সাতজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও আহতদের তালিকা

বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি ইউনিয়নের আমতলা গ্রামে এ রক্তাক্ত সংঘর্ষ সংঘটিত হয়। নিহত সোমা আক্তার আমতলা গ্রামের সাদ্দাম হোসেনের স্ত্রী ছিলেন। সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে রয়েছেন:

  • ইদ্রিসের স্ত্রী আসমা (৪৫)
  • কুদ্দুসের ছেলে সোহেল (৩৬)
  • মৃত উসমানের স্ত্রী হারুনা (৬০)
  • শিকা (১৮)
  • শারমিন (২৫)
  • নূরুল ইসলাম (৬০)
  • শাহিন মিয়া (৩২)
  • ইদ্রিস মিয়া
  • সাত্তার মিয়া

আহত সোমা আক্তারকে প্রথমে স্থানীয় উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে তার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিরোধের পটভূমি ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত নূরুল ইসলাম ও তার ফুফাতো ভাই শামসুদ্দিনের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বুধবার সকালে একপক্ষ জমিতে মাটি কাটতে গেলে অন্যপক্ষ বাধা দেওয়ায় উত্তপ্ত বাকবিতণ্ডা রক্তাক্ত সংঘর্ষে রূপ নেয়। নিহতের পরিবারের সদস্যদের দাবি, দুই গোষ্ঠীর এই সমস্যাকে আরও উসকে দিতে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী ভূমিকা রাখছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

কেন্দুয়া থানার ওসি মো. মেহেদী মাকসুদ ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, "আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে এবং আহতদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

এ ধরনের জমি সংক্রান্ত বিরোধ প্রায়শই গ্রামীণ সমাজে সংঘাতের কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতা ও মধ্যস্থতা ছাড়া此类 ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ করা কঠিন হতে পারে। নেত্রকোনার কেন্দুয়া এলাকায় এই ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে, এবং তারা দ্রুত ন্যায়বিচার ও শান্তি ফিরে পাওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।