রাজশাহীতে প্রতিবেশী নারীর হাতে নিখোঁজ সাত মাসের শিশু
রাজশাহীতে প্রতিবেশী নারীর হাতে নিখোঁজ সাত মাসের শিশু

রাজশাহীর বাগমারায় প্রতিবেশী এক নারী সাত মাসের এক কন্যাশিশুকে কোলে নিয়ে পালিয়ে গেছেন। আজ বুধবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটিকে কোলে নিয়ে আদর করার একপর্যায়ে তিনি সটকে পড়েন।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো আজ সকালে প্রতিবেশী জাহিদ হাসানের শিশুকন্যা জবাইদা আক্তারকে কোলে নিয়ে আদর করছিলেন শিউলী বেগম। কিছুক্ষণ পর তিনি শিশুটিকে নিয়ে নিজের বাড়িতে চলে যান। দীর্ঘ সময় পার হলেও শিশুসহ শিউলী ফিরে না আসায় সন্দেহ হয় পরিবারের।

একপর্যায়ে শিশুটির মা সুরাইয়া আক্তার ইতি মেয়েকে আনতে শিউলীর বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন শিউলী বাড়িতে নেই। মেয়ের কোনো খোঁজও পাননি। এরপর পরিবারের লোকজন আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও না পেয়ে তারা হতাশ হয়ে পড়েন। পরে অটোরিকশা ও বাসস্ট্যান্ডেও শিউলীর সন্ধান চলে, কিন্তু কোথাও পাওয়া যায়নি। নিরুপায় হয়ে থানা–পুলিশকে ঘটনাটি জানানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

শিশুর মায়ের বক্তব্য

শিশুর মা সুরাইয়া আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, প্রতিবেশী শিউলী প্রায়ই তাঁর বাড়িতে এসে মেয়েকে আদর করতেন। এভাবে কেন মেয়েকে নিয়ে পালিয়ে যাবেন, তা ভেবে পাচ্ছেন না তিনি। তিনি মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত চান।

শিশুর বাবার বক্তব্য

শিশুটির বাবা জাহিদ হাসান, যিনি একটি দোকানের কর্মচারী, বলেন, ‘এ বিষয়ে থানায় গেলে ওসি স্যার না থাকায় জিডি বা অভিযোগ না নিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দিয়েছেন।’ তবে দুপুরে থানা সূত্রে জানা যায়, পুলিশই ওই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে থানায় আসতে বলেছে। কিন্তু বেলা তিনটা পর্যন্ত তারা থানায় আসেনি।

পরিবারের অবস্থা

দুপুরে নিখোঁজ শিশুর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পরিবারের সদস্যরা কান্নাকাটি করছেন। সবার চোখে–মুখে আতঙ্কের ছাপ। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। তাঁদের একটাই চাওয়া—মেয়েকে অক্ষত অবস্থায় ফেরত পাওয়া।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবেশীদের বক্তব্য

প্রতিবেশীরা জানান, নিখোঁজ শিউলী বেগমের ১০ ও ৫ বছরের দুটি সন্তান রয়েছে। একসময় তিনি স্বামী–সন্তানসহ ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। দেড় মাস আগে শিউলী বেগম স্বামীর বাড়ি দানগাছিতে সন্তানসহ চলে আসেন। তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন ঢাকাতেই আছেন। তবে কিছু দিন ধরে শিউলীর আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। তিনি বাড়িতে মুঠোফোন রেখে গেছেন। শিশুসন্তান নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না কেউ।

স্বামীর বক্তব্য

শিউলীর স্বামী বিদ্যুৎ হোসেন মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি গাজীপুরে আছি। ঘটনা সকালে শুনেছি, কীভাবে কী হলো বুঝতে পারছি না, ভাই। আমি বাড়িতে আসছি।’