পিরোজপুরে ব্রিজ ভেঙে খালে ট্রাক, ১০ রুটে যান চলাচল বন্ধ
পিরোজপুরে ব্রিজ ভেঙে খালে ট্রাক, ১০ রুটে যান বন্ধ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় আঞ্চলিক মহাসড়কের ওপর নির্মিত একটি স্টিল ব্রিজ ভেঙে আলুবোঝাই ট্রাক খালে পড়ে গেছে। এতে করে ওই সড়কের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার ভোররাতে মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ও মিরুখালি ইউনিয়নের মধ্যবর্তী দেবীপুর মাদ্রাসা সংলগ্ন বেইলি ব্রিজটি ধসে পড়ে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

ব্রিজ ধসের বিবরণ

ভোররাতে আলুবোঝাই ট্রাকটি ব্রিজে ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেটি ভেঙে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিল। ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ছিল মাত্র ২০ টন, কিন্তু ট্রাকের লোড ছিল অনেক বেশি। ফলে ব্রিজটি অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পেরে ভেঙে পড়ে।

যান চলাচল বন্ধ

ব্রিজ ধসের পর পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-বরিশাল-খুলনা-ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে যাত্রীরা প্রায় ছয় কিলোমিটার সরু পথ তুষখালী লঞ্চঘাট-তেলিখালি-ইকরি ঘুরে যাতায়াত করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব মিয়া বলেন, বেইলি ব্রিজটি পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন এলাকার মধ্যে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল। প্রতিদিন বহু পরিবহণ, লোকাল বাস, অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা, পিকআপ ও পথচারী এটি ব্যবহার করতেন। ব্রিজটি ভেঙে যাওয়ায় এখন কোনো মালামাল পরিবহণ করা যাচ্ছে না। বিকল্প পথ ঘুরে যাতায়াত করতে সময় ও জ্বালানি বেশি লাগছে।

পাথরঘাটা-মঠবাড়িয়া-বরিশাল রুটের লোকাল বাস চালক মো. সোহাগ খান বলেন, ব্রিজ ভেঙে যাওয়ায় আমরা বিপাকে পড়েছি। ছয় কিলোমিটার সরু পথ ঘুরে গন্তব্যে যেতে হয়, ফলে সময় ও জ্বালানি অপচয় হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ

পিরোজপুরের সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাসেল বলেন, ব্রিজটির ধারণক্ষমতা ২০ টন ছিল। অতিরিক্ত লোডের কারণেই এটি ভেঙে পড়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্রিজটি প্রতিস্থাপনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, ইতোমধ্যে জেলার রোডস অ্যান্ড হাইওয়ে কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। দ্রুত ভোগান্তি লাঘবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।