কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশ পরিচয় দিয়ে এক কারারক্ষীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে পরিবারের সবাইকে জিম্মি করে স্বর্ণালঙ্কার, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের চাঁদের বাপের পাড়া এলাকায় এ ডাকাতির ঘটনা ঘটে।
ঘটনার বিবরণ
গৃহকর্তা মাওলানা ফয়জুল আলমের মেঝ ছেলে আব্দুল্লাহ আল মুস্তাহিদ কুমিল্লা জেলা কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে একদল সশস্ত্র লোক তার বাড়ির দরজায় এসে নিজেদের পুলিশ পরিচয় দেয় এবং বলে, ‘আপনাদের বাড়িতে আসামি আছে, দরজা খুলুন’। বাড়ির সবাই ঘুমে ছিলেন। পুলিশ পরিচয় শুনে কেউ কেউ জেগে উঠেন। কথা বলার সময় দরজা খানিকটা খোলা পেয়ে ডাকাতরা জোরপূর্বক ভেতরে ঢুকে পড়ে।
ওই সময় বাড়িতে ছোট বোনের জামাই ওবায়দুল হকও ছিলেন, যিনি ফেনী জেলা কারাগারের কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত। মুস্তাহিদ বলেন, রাত ২টায় আগন্তুকদের হাতের অস্ত্রগুলো সরকারি অস্ত্র নয় বলে বুঝতে পারেন। তিনি ডাকাতদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত বাড়ির নারী সদস্যদের নিরাপদ হেফাজতে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এরমধ্যে ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ফেলে।
লুটের পরিমাণ ও তাণ্ডব
ডাকাতরা বাড়ির প্রতিটি কক্ষে ঢুকে আসবাবপত্র তছনছ করে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। প্রায় ২৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে তাণ্ডব চালিয়ে তারা চার জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং পাঁচটি মোবাইল ফোন লুট করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যায়।
গৃহকর্তা মাওলানা ফয়জুল আলম জানান, ডাকাতির সময় তিনজন অস্ত্রধারী বাড়িতে প্রবেশ করলেও কমপক্ষে আরও চার-পাঁচজন ডাকাত বাড়ির বাইরে পাহারায় ছিল। তারা সবকিছু লুটে নিয়ে দ্রুততম সময়ে বাড়ি ত্যাগ করে।
পুলিশের তৎপরতা
রাতে ঘটনার খবর পেয়ে হারবাং ফাঁড়ি পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক শওকত হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনার পরপরই ডিউটিতে থাকা পুলিশের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। ডাকাতদের ধরতে ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান চলছে।
চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার অভিজিৎ দাশ বলেন, বরইতলী ইউনিয়নে কারারক্ষীর বাড়িতে তিনজনের প্রবেশের বিষয়টি জানতে পেরেছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
বরইতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ছালেকুজ্জামান জানান, ঘটনাটি নিয়ে এলাকার জনগণের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।



