শূন্যরেখায় ৫৯ ঘণ্টা ধরে আটকে ১০ জন
পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ১০ জন নারী-পুরুষ-শিশু প্রায় ৫৯ ঘণ্টা ধরে শূন্যরেখার ফসলি জমির আইলে অবস্থান করছেন। জ্যৈষ্ঠের প্রচণ্ড রোদ আর ভ্যাপসা গরমের মধ্যে কেউ বসে আছেন, কেউ দাঁড়িয়ে। আইলে জমেছে বৃষ্টির পানি। এক পাশে রাইফেল হাতে বিজিবি, অপর পাশে বিএসএফ সদস্যরা।
গত শুক্রবার ভোর পাঁচটা থেকে আজ রোববার বিকেল চারটা পর্যন্ত কোনো দেশই তাঁদের সীমান্তে প্রবেশ করতে না দেওয়ায় তাঁরা খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। পুশ ইন চেষ্টার শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ, দুজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। শুক্রবার ভোরে বিএসএফ তাঁদের বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করলে বিজিবি কঠোর নজরদারির কারণে তাঁদের প্রবেশে বাধা দেয়।
দুই দফা পতাকা বৈঠকেও সমাধান না
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় ৫৬ বিজিবি ও ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার পর্যায়ে এবং শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হয়। কিন্তু দুই দফার বৈঠকেও কোনো সমাধান আসেনি।
শূন্যরেখায় অবস্থান করা ১০ জনকে দেখতে বাংলাদেশ সীমান্তে লোকজন ভিড় করছেন। স্থানীয় বাসিন্দারা রোদ-বৃষ্টির মধ্যে নারী-শিশুসহ ১০ জনের কষ্ট দেখে দুই দেশের সরকারের কাছে দ্রুত সমাধান দাবি করছেন। বড়বাড়ি এলাকার বাসিন্দা মো. জহিরুল হক বলেন, 'তিন দিন ধরে ছোট বাচ্চাসহ মানুষগুলোর কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে। এই রোদে আমাদের ছায়াতে থাকতে কষ্ট হচ্ছে, তাহলে পানি জমে থাকা আইলের মধ্যে ওরা কীভাবে আছে?'
দক্ষিণ প্রধানপাড়ার বাসিন্দা রহিদুল ইসলাম বলেন, 'ওখানে থাকা বাচ্চাদের দেখে কান্না আসছে। পানির ওপর রোদের নিচে মানুষ কতক্ষণ থাকতে পারে? ওদের খাবার নেই, প্রস্রাব-পায়খানার ব্যবস্থা নেই। আমরা চাই দুই দেশের সরকার আলোচনা করে দ্রুত সমাধান করুক।'
৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, 'আমি ভারতের ৯৩ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডারকে তাঁদের ফিরিয়ে নিতে বলেছি। কিন্তু তারা অস্বীকৃতি জানিয়েছে। আমরাও তাঁদের গ্রহণ করব না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'



