দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশের একটি বড় ধরনের অপচেষ্টা সফলভাবে নসাৎ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একইসঙ্গে শেরপুরের প্রায় ৪৫ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় তৎপর রয়েছে বিজিবি। শুক্রবার (৫ জুন) জুমার নামাজের সময় সীমান্ত পরিস্থিতি শিথিলের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে একটি সুসংগঠিত মানবপাচারকারী চক্রের সহায়তায় এ অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা করা হয়েছিল বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে। বিজিবির সময়োচিত পদক্ষেপ এবং স্থানীয়দের অতন্দ্র প্রহরা এই সীমান্ত লঙ্ঘন ও অপতৎপরতাকে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ করে দেয়।
অনুপ্রবেশের পরিকল্পনা ও বিজিবির প্রতিক্রিয়া
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, ৩৯ বিজিবির আওতাধীন রামচন্দ্রকুড়া সীমান্ত ফাঁড়ির (বিওপি) দায়িত্বপূর্ণ এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলার ১১১৮ এর নিকটবর্তী কাঁটাতারবিহীন অঞ্চলকে অনুপ্রবেশের রুট হিসেবে বেছে নিয়েছিল চক্রটি। সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে আনুমানিক ৪০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে, ২২ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের বাবুরাম বিল ক্যাম্পের আওতাধীন চেরাংপাড়া নামক স্থানে গত কয়েকদিন ধরে পাঁচ-ছয়জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিজিবি জানতে পারে যে, একটি কুচক্রী আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী দলের সহায়তায় এই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) সব ধরনের নীলনকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিষয়টি টের পাওয়ার পরপরই বিজিবি সীমান্তজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার
এ ঘটনার পর ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমানা সুরক্ষায় বিজিবির পক্ষ থেকে বহুমাত্রিক ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের রুট ও স্পর্শকাতর পয়েন্ট চিহ্নিত করে প্রতিটি সীমান্ত চৌকিতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন টহল ডিউটি নিশ্চিত করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোতে বহিরাগতদের আনাগোনা বন্ধ করতে এবং নিরাপত্তা সচেতনতা বাড়াতে বিজিবির উদ্যোগে জরুরি ভিত্তিতে সচেতনতামূলক সভার আয়োজন করা হচ্ছে। স্থানীয় দালাল চক্র, যারা অর্থের বিনিময়ে এ ধরনের রাষ্ট্রবিরোধী পাচারকাজে লিপ্ত রয়েছে, তাদেরকে সোর্স নিয়োগের মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জোরালো প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়কের বক্তব্য
ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়নের (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ জানান, দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় এবং যেকোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান ও মাদকপাচার রোধে বিজিবি ২৪ ঘণ্টা সর্বদা জাগ্রত রয়েছে। আন্তর্জাতিক সীমান্ত বিধি লঙ্ঘন করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের অবৈধ প্রবেশের অপচেষ্টা বরদাশত করা হবে না। দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুণ্ন রাখতে বিজিবির এ জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।



